State

অশান্তির মধ্যে ভাল ভোট, শেষ দ্বিতীয় দফা

সকাল থেকেই ছোটখাটো গণ্ডগোলের খবর আসছিল। সকলের নজর ছিল নন্দীগ্রামে। নন্দীগ্রামের একটি বুথ সহ রাজ্যের বাকি ৩০ কেন্দ্রেও ছোটখাটো অশান্তি। মিটল দ্বিতীয় দফা।

কলকাতা : ইভিএম খারাপ থেকে প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ, সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত থেকে এজেন্ট বসতে না দেওয়ার অভিযোগ। দুএক জায়গায় তৃণমূল-বিজেপি হাতাহাতি। এসব যেমন সারাদিন চলল, তেমনই মানুষ কিন্তু ভোট দিলেন। প্রয়োগ করলেন গণতান্ত্রিক অধিকার।

বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় এদিন ৪ জেলার ৩০টি আসনে হল ভোট। যারমধ্যে সবচেয়ে বেশি নজরকাড়া কেন্দ্র ছিল নন্দীগ্রাম। যেখানে ভোট ময়দানে ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁর বিপরীতে বিজেপি প্রার্থী ছিলেন তাঁরই একদা অনুগত শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন সকাল থেকে তৃণমূলের তরফে কয়েকটি বুথে তাদের এজেন্ট বসতে না দেওয়ার অভিযোগ আসছিল। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীও এদিন বিভিন্ন বুথে হাজির হন। ভোট প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। বেলায় তিনি জানান ভোট শান্তিপূর্ণই হচ্ছে। সেকথা শোনা যায় তৃণমূলের সেখ সুফিয়ানের গলাতেও।

এদিন দুপুরের দিকে শুভেন্দু অধিকারীর গলায় ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। তাঁর হাসি, শরীরী ভাষা বলে দিচ্ছিল জয় নিয়ে তিনি হয়তো অনেকটাই আশাবাদী। তিনি এও জানান বুথভিত্তিক পরিকল্পনা তাঁদের ছিল। শুভেন্দু এদিন বলেন, বিকাশের জয় হবে।

একদিকে যখন শুভেন্দু আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু দুপুরে বার হন রেয়াপাড়ার বাড়ি থেকে। সেখান থেকে বয়ালে বয়াল মক্তব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭ নম্বর বুথে যান। সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে তাঁকে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বুথ থেকে বার করে আনা হয়।

এদিন ডেবরা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ ওঠে। তবে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা সেভাবে ঘটেনি।

এদিকে কেশপুরের বিজেপি প্রার্থীর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে এখানে একটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এদিন চণ্ডীপুরে একটি বুথের সামনে এক বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগ সামনে আসে। অন্যদিকে এখানেই তৃণমূল প্রার্থী সোহম চক্রবর্তীর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭২ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিকেলে যখন ভোট প্রায় শেষ হয়ে এসেছে তখন বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ২০৫ নম্বর বুথের সামনে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। প্রবল লাঠিচার্জ করা হয়।

কেশপুরের তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহার নির্বাচনী এজেন্ট গুরুতর আহত হন। তাঁকে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল।

এদিকে নন্দীগ্রামে এদিন একদিকে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন তিনিই জিতছেন। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে জেতা নিয়ে নিশ্চিত। অন্তত তাঁদের ২ জনের বক্তব্যে তেমনই শোনা গেছে।

এদিকে এদিন রাজ্যে প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে হারার ইঙ্গিত স্পষ্ট। তাই তিনি এবার অন্য আসন থেকে ফের প্রার্থী হতে পারেন। যদিও তা তৃণমূলের তরফে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের সাফ দাবি, নন্দীগ্রাম থেকে জিতছেন মমতা। অন্য কোনও কেন্দ্রে তিনি দাঁড়াবেন না।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button