রহস্যময় এই লাল জলের হ্রদের জল ছুঁলে পাথর হয়ে যায় পাখিরা
পৃথিবীতে আশ্চর্যের শেষ নেই। যেমন একটি রহস্যময় হ্রদ রয়েছে যেখানকার জল পাখিরা ছুঁলে পাথর হয়ে যায়। লাল টকটকে জলের এই হ্রদ আজও অবাক করে সকলকে।
এ হ্রদের জলের রং লাল। যেন কেউ লাল রং এনে ঢেলে দিয়েছে জলে। কেবল রংয়ের কারণেই এই হ্রদ নজর কেড়ে নিতে পারে সকলের। হ্রদটি চারধার দিয়ে ছোট ছোট পাহাড়ে ঘেরা।
দূর দূর পর্যন্ত মানুষের বাস নেই। রুক্ষ প্রান্তর, পাহাড়। তার মাঝেই টলটল করে এই হ্রদের জল। যা পুষ্ট হয় কয়েকটি খুব ছোট নদীর জল আর উষ্ণ প্রস্রবণের জলে।
এ হ্রদের জল কোনও নদী বা সমুদ্রে গিয়ে পড়েনা। হ্রদটির একটি ভয়ংকর দিক হল তা দেখতে যেমন সুন্দর, জলে নামলে ততটা নয়। কারণ এই হ্রদের জল কোনও পাখি এসে ছুঁলে তারা পাথর হয়ে যায়। এমন পাথরের মত দেখতে হয়ে যাওয়া পাখির দেহ এই হ্রদে দেখতে পাওয়া যায়।
কেন পাথর হয়ে যায় পাখিরা? এর সঠিক করে কোনও উত্তর মেলেনি। তবে এই ক্ষারধর্মী হ্রদে মিশে আছে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম কার্বোনেট ও ক্যালসিয়াম বাইকার্বোনেট।
নদীর জলের বিভিন্ন খনিজ ও লবণ এই হ্রদে মেশে আশপাশের পাহাড় থেকে। এই প্রবল ক্ষারীয় জলের কারণেই পাথর হয়ে যায় পাখিরা বলে মনে করছেন অনেকে।
এই হ্রদের দেখা পেতে পোঁছে যেতে হবে পূর্ব আফ্রিকার তানজানিয়ায়। তানজানিয়ার এই হ্রদটির নাম ন্যাট্রন। এমনই আরও একটি ক্ষারীয় হ্রদ রয়েছে এখানে। তবে বিশ্ববাসীকে অবাক করে ন্যাট্রন। আর সেটা তার জল ছুঁয়ে পাখিদের পাথরের রূপ নেওয়ার হাত ধরে। এই অবাক দৃশ্য প্রথম সামনে আনেন এক ফটোগ্রাফার। হ্রদটি খুব প্রাচীন নয়। ১৫ লক্ষ বছর আগে এই হ্রদের সৃষ্টি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞেরা।






