World

মোনালিসাকে ছাপিয়ে গেল বিশ্ব পরিত্রাতা

৪৫০ মিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় ২ হাজার ৯৩৫ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। এমনই বিপুল দামে বিক্রি হয়ে গেল বিশ্বখ্যাত শিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ছবি। ৫০০ বছরের প্রাচীন ছবিটির নিলামের আসর বসেছিল নিউ ইয়র্কে। রেকর্ড দামে বিক্রি হওয়া ছবিটি কেনার জন্য ক্রেতাদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত।

বুধবার বিকেলে নিউ ইয়র্কের ক্রিস্টিজ অকশন হাউজে দ্য ভিঞ্চির আঁকা ‘সালভাদর মুন্ডি’, বাংলায় ‘বিশ্ব পরিত্রাতা’, ছবিটি বিক্রির জন্য নিলামের আসর বসানো হয়। হাউজে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের তাবড় ধনী ব্যক্তিরা। যাঁদের অন্যতম শখ দুর্লভ ছবি কেনা।

প্রথম দিকে নিলামে ছবির দাম ওঠে ৩৩২ থেকে ৩৫০ মিলিয়নের মধ্যে। কিন্তু, নিলাম শুরুর ২০ মিনিটের মধ্যে এক লাফে সেই দাম ৪০০ মিলিয়নের কোঠা ছাড়িয়ে যায়। ভারতীয় মুদ্রায় যার দাম প্রায় ২৯০০ কোটি টাকা। ছবিটি কিনে নেয় আবুধাবির সংস্কৃতি ও পর্যটন দফতর। এমন অবিশ্বাস্য দামে যে ছবিটি বিক্রি হবে তা নিলামের আয়োজকেরাও ভাবতে পারেননি।

এর আগে, ২০১৫ সালে আরেক খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর আঁকা ছবি ১৭৯ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। কিন্তু লিওনার্দোর আঁকা যিশুখ্রিস্টের অবয়ব সর্বকালের সমস্ত রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। ন্যায্য দামের অতিরিক্ত মূল্য পেয়ে স্বভাবতই খুশি নিলাম হাউজের কর্মকর্তারা। ছবিটি ল্যুভর আবুধাবি মিউজিয়ামে এবার থেকে প্রদর্শনের জন্য রাখা থাকবে।


ষোড়শ শতকে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা ‘মোনালিসা’ রাজা প্রথম চার্লসের রাজকীয় সংগ্রহশালায় স্থান পায়। দুর্ভাগ্যবশত দুর্মূল্য ছবিটি সংগ্রহশালায় পরে আর পাওয়া যায়নি।

১৭৬৩ থেকে ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ছবিটির আর কোনও সন্ধান ছিলনা। পরে চিত্র সংগ্রাহক স্যার চার্লস রবিনসন ছবিটি উদ্ধার করেন। ১৯৫৮ সালে মাত্র ৪৫ পাউন্ডে লিওনার্দোর মোনালিসা বিক্রিও হয়ে যায়। এরপর ২০০৫ সালে লিওনার্দোরই আঁকা যিশুখ্রিস্টের অবয়ব ‘সালভাদর মুন্ডি’ ছবিটি আমেরিকার একটি নিলাম হাউজে সংরক্ষিত অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধার করা হয়।

বহু হাত বদলের পর ছবিটি আসে ক্রিস্টিজ নিলাম হাউজের হাতে। মিউজিয়ামে সংরক্ষিত না রেখে ছবিটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাঝখানে লন্ডন, হংকং ও সানফ্রানসিসকোতে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ছবি প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। এতে ছবিটি ব্যাপক প্রচার পায়। উৎসাহী মানুষের মধ্যে ছবি ঘিরে প্রচণ্ড উন্মাদনা তৈরি হয়।

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button