এ জগন্নাথ মন্দির ১৬৯১ সালের। নাগবংশী এক রাজা এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারপর থেকে এখানে জগন্নাথদেব পূজিত হন পূর্ণ প্রথাগত নিয়ম মেনে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জগন্নাথপুর মন্দিরে ভক্ত আগমন বাড়তে থাকে।
এই মন্দিরে একসময় একটি প্রথা শুরু হয়। যা আজও অক্ষুণ্ণ। যা মাউরি দান নামে পরিচিত। ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অবস্থিত এই মন্দিরে রথ থেকে উল্টোরথের মধ্যে নানা প্রান্ত থেকে নববিবাহিত বরেরা হাজির হন।
কেবল নতুন বিয়ে করে ভগবানকে দর্শন করে তাঁকে ভক্তি নিবেদনই নয়, বরেরা আসেন তাঁদের মাউরি দান করতে। এই মাউরি হল বিয়ের সময় বরেরা যে শিরস্ত্রাণ ব্যবহার করেন। সেটা বিয়ের পর এই মন্দিরে এসে জগন্নাথদেবের কাছে দান করা এক প্রাচীন রীতি।
যে রীতি আজও সমানভাবে বহাল রয়েছে। রাঁচি বলেই নয়, আশপাশের বহু জায়গা থেকে, এমনকি লাগোয়া রাজ্য থেকেও অনেক নতুন বিয়ে হওয়া বরেরা এখানে হাজির হন মাউরি দান করতে।
বরেরা নিজেরা সরাসরি জগন্নাথদেবের কাছে মাউরি দান করতে পারেননা। তাঁরা তাঁদের কুলপুরোহিতকে সঙ্গে আনেন। তাঁরাই ভগবান জগন্নাথদেবের কাছে তা দান করেন। যা স্থান পায় বাঁশগাছে।
যেহেতু বাঁশগাছ খুব দ্রুত বাড়ে তাই এ এক প্রাচীন বিশ্বাস যে বাঁশগাছে মাউরি রাখা থাকলে জগন্নাথদেবের আশির্বাদ ওই পরিবারে বংশপরম্পরায় সুখ ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। আজও তাই নতুন বরেরা রথের সময় হাজির হন এই প্রাচীন মন্দিরে।