একাই একটি নদীর জীবন ফিরিয়ে দিলেন ২০ বছরের তরুণ
একটি নদীর জীবন ফিরিয়ে দিলেন এক ২০ বছরের তরুণ। যার হাত ধরে তিনি এখন দেশজুড়ে বহু মানুষের চোখে সত্যিকারের হিরো।
নদী যে রয়েছে সেটা স্থানীয়দের জানা ছিল। কিন্তু যদি কেউ সেটি সম্বন্ধে না জানেন তাহলে কেবল নদীটির দিকে তাকালে তাঁর পক্ষে এটা বোঝা মুশকিল যে ওটা একটা নদী।
নদীর জল দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল না। পাঁকে ভরে গিয়েছিল। যে জল ছিল তার ওপর পানা পড়ে সবুজ হয়ে গিয়েছিল। নদী না নর্দমা বোঝা দায়! নদীর ওপর নর্দমার মত ফেলা আবর্জনার স্তূপ। প্লাস্টিকে ভরে আছে চারধার।
এ নদীর ঘাট রয়েছে। কিন্তু নদীতে নামার উপায় নেই। নদীটাই তো হারিয়ে গেছে! সেই নদীকে আবর্জনা মুক্ত করে তার টলটলে জল ফিরিয়ে দিতে কোনও প্রশাসন, পুরসভা নয়, এগিয়ে আসেন এক ২০ বছরের তরুণ।
প্রথমে নদী পরিস্কারের জন্য পাশে পান তাঁর কয়েকজন বন্ধুকেও। কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যেই বিট্টু নামে ওই তরুণ বুঝতে পারেন তাঁর বন্ধুদের তিনি একাজে আর পাশে পাবেন না।
অগত্যা একলা চলো রে মন্ত্রে তিনি একাই নদী পরিস্কার শুরু করে দেন। নেমে পরেন জঞ্জালে ভরা নদীতে। তারপর সাধারণ কিছু কোদাল, বেলচা নিয়ে তিনি শুরু করে দেন দিনরাত এক করে নদী সাফাইয়ের কাজ।
মধ্যপ্রদেশের বিওরা-র বাসিন্দা বিট্টুর একক প্রচেষ্টায় অজনার নদী ফিরে পায় তার পুরনো চেহারা। জঞ্জাল মুক্ত এক টলটলে জলের নদী সহ তার আশপাশের চেহারাই বদলে যায়। শহরের গা দিয়ে ফের একটি নদী বয়ে যেতে দেখেন স্থানীয়রা।
বিট্টুর এই একক প্রচেষ্টায় নদীর রূপ ফেরানোর কাহিনি তিনি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেন। পরে এই কাহিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেন শিল্পপতি আনন্দ মহিন্দ্রা।
বিট্টুর কাহিনি জানার পর তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলেই। অনেকের মতে, এক তরুণ একার চেষ্টায় যদি এটা করে দেখাতে পারেন, তাহলে দেশের সকলে যদি পরিচ্ছন্ন এক ভারত গড়ার চেষ্টায় ব্রতী হন তাহলে দেশের চেহারাই বদলে যাবে।













