National

ছুটি কাটাতে গিয়ে আবিষ্কার ২ হাজার বছরের পুরনো লুকোনো গুহা

অনেকটা গল্পের মতই ঘটনাটা ঘটল। তবে ঘটল বাস্তবে। নেহাতই রবিবারের ছুটি কাটাতে গিয়ে ২ হাজার বছরের পুরনো গুহা আবিষ্কার করে ফেললেন এক ব্যক্তি।

ছুটি উপভোগ করতে বন্ধুবান্ধব পরিবার নিয়ে বনভোজন করতে যাওয়া প্রত্নতত্ত্ববিদ ভুজঙ্গ বোবাদে-র জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশের সীমানার খুব কাছে জলগাঁও জেলার জঙ্গল ঘেরা অঞ্চলে ছুটির মেজাজে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎই ভুজঙ্গের নজরে আসে একটি গুহা। তিনি এগিয়ে যান কাছে।


প্রত্নতাত্ত্বিকের চোখ ভুল করেনি। নেহাতই ছুটি কাটাতে এসে তিনি যে এক চমকে দেওয়া আবিষ্কার করে ফেলেছেন তা অচিরেই বুঝতে পারেন ভুজঙ্গ। একটি গুহা মুখের দেখা পান তিনি। জানা যায় ২ হাজার বছরের পুরনো ওই গুহাটি এতদিন ধরে ঝোপের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল। অনুমান করা হচ্ছে এই গুহাটি সাতবাহন সাম্রাজ্যের সময়কালে ব্যবহৃত হত।

হায়দরাবাদের ডেকান আর্কিওলজিক্যাল অ্যান্ড কালচারাল ইন্সটিটিউটের আর্কাইভ অ্যান্ড মিউজিয়াম বিভাগের ডিরেক্টর ভুজঙ্গ কয়েকজন বন্ধু ও পরিবার নিয়ে পাহাড় ঘেরা অরণ্যের মধ্যে গাওলি রাজাদের তৈরি দুর্গের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়েছিলেন।



ঘোরাঘুরি করতে করতে হঠাৎই তাঁর চোখ পড়ে অনেক গাছপালা ঢাকা একটি স্থানের দিকে। সেখানে পোঁছে আগাছায় ঢাকা একটি গুহা পথ দেখতে পেয়ে অবাক হয়ে যান ভুজঙ্গ ও তাঁর সঙ্গীরা।

জলগাঁও জেলার ছাউগাও গ্রাম থেকে ৯ কিলোমিটার গভীরে জনমানব বর্জিত অরণ্যের ভিতর বহুযুগ ধরে আগাছার আড়ালে লুকিয়েছিল গুহাটি। কেউ কল্পনাও করতে পারেননি সেখানে এমন একটি ঐতিহাসিক গুহা লুকিয়ে থাকতে পারে।

দুর্গের ধ্বংসাবশেষের কাছে জলাধার আর নোংরা কাদাজলে ভরা একটি বড় গুহার অবস্থানের কথা জানতেন তাঁরা। কিন্তু তার কিছুটা ওপরে ১২০ বর্গফুটের একটি ছোট শুষ্ক গুহা আবিষ্কার হয়ে যায় এদিন। তাও আবার নেহাতই ছুটির মুডে বেড়াতে বেড়াতে।

গুহাটির অভিনবত্ব উল্লেখ করতে গিয়ে বোবাদে জানান এই গুহাটিতে জলপথেই পৌঁছনো সম্ভব। এমন গুহা ভারতে খুব একটা দেখা যায়না। সাতবাহন রাজাদের সাম্রাজ্যকালে বণিকরা এই গুহাটি বিশ্রাম করার জন্য ব্যবহার করতেন বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।

রাজাদের সুরক্ষার জন্যও এমন গভীর অরণ্যের মধ্যে অবস্থিত গুহা ব্যবহৃত হতে পারে বলেও মনে করছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। তবে এমন একটা আবিষ্কার ভুজঙ্গকে রাতারাতি খবরের শিরোনামে জায়গা করে দিয়েছে। তাঁর আবিষ্কার সাতবাহন সাম্রাজ্য সম্বন্ধেও অনেক তথ্য দেবে বলে মনে করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show More

News Desk

নীলকণ্ঠে যে খবর প্রতিদিন পরিবেশন করা হচ্ছে তা একটি সম্মিলিত কর্মযজ্ঞ। পাঠক পাঠিকার কাছে সঠিক ও তথ্যপূর্ণ খবর পৌঁছে দেওয়ার দায়বদ্ধতা থেকে নীলকণ্ঠের একাধিক বিভাগ প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। সাংবাদিকরা খবর সংগ্রহ করছেন। সেই খবর নিউজ ডেস্কে কর্মরতরা ভাষা দিয়ে সাজিয়ে দিচ্ছেন। খবরটিকে সুপাঠ্য করে তুলছেন তাঁরা। রাস্তায় ঘুরে স্পট থেকে ছবি তুলে আনছেন চিত্রগ্রাহকরা। সেই ছবি প্রাসঙ্গিক খবরের সঙ্গে ব্যবহার হচ্ছে। যা নিখুঁতভাবে পরিবেশিত হচ্ছে ফোটো এডিটিং বিভাগে কর্মরত ফোটো এডিটরদের পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে। নীলকণ্ঠ.in-এর খবর, আর্টিকেল ও ছবি সংস্থার প্রধান সম্পাদক কামাখ্যাপ্রসাদ লাহার দ্বারা নিখুঁত ভাবে যাচাই করবার পরই প্রকাশিত হয়।
Back to top button