National

৩২ বছর ধরে বৃষ্টির জল খেয়ে বেঁচে আছেন প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী

গত ৩২ বছরে তিনি অন্য কোনও জল পান করে দেখেননি। কেবলমাত্র বৃষ্টির জলই তাঁর সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।

হায়দরাবাদ : অসুস্থতা কাকে বলে তাঁর জানা নেই। অবসর নিয়েছেন ৬ বছর হল। স্থানীয় একটি ব্যাঙ্কে কাজ করতেন। তারপর থেকে বাড়িতেই। স্বপাক রান্না, সাইকেলে ঘোরা, হাঁটাহাঁটি, বাড়ির সব কাজ নিজেই করেন। বয়স বাড়লেও কোনও ওষুধ খেতে হয়না। কোনও ব্যথা, যন্ত্রণা নেই, নেই রক্তচাপ বা সুগারের সমস্যা বা অন্য কোনও সমস্যা। আর তাঁর এই সুস্থতার রহস্য তাঁর মতে লুকিয়ে আছে বৃষ্টির জলে।

৩২টি বছর জীবনের কাটিয়ে ফেলেছেন কেবলমাত্র বৃষ্টির জল পান করে। তেলেঙ্গানার সাঙ্গারেড্ডি শহরের বাসিন্দা পোন্নাড়া বসন্ত কুমার বিশ্বাস করেন বৃষ্টির জলে তাঁর দেহের প্রয়োজনীয় সব খনিজ রয়েছে। সারা বছরের পানীয় জলের জন্য বৃষ্টির জল তিনি পান কোথা থেকে? এমন প্রশ্ন মনে আসা স্বাভাবিক। বসন্ত কুমার কিন্তু কেবল মাত্র বর্ষার সময়কে কাজে লাগিয়ে সারা বছরের পানীয় জল সংগ্রহ করে রাখেন।


পড়ুন আকর্ষণীয় খবর, ডাউনলোড নীলকণ্ঠ.in অ্যাপ

প্রথম বর্ষার বৃষ্টি অবশ্য তিনি নেন না। তিনি বর্ষার মাঝামাঝি সময় যখন প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় তখনকার বৃষ্টির জল সংগ্রহ করেন তাঁর বারান্দায় রাখা ৬টি ড্রামে। তারপর সেই ড্রামের জলে ফটকিরি ঢেলে দেন। যাতে জল পরিশুদ্ধ হয়ে যায়। তারপর সেই জলে কিছুদিন রেখে দেওয়ায় জলে থাকা কণাগুলি থিতিয়ে ড্রামের তলায় চলে যায়। ওপরে থাকে ফটকিরি দিয়ে শুদ্ধ করা বৃষ্টির জল। এবার সেই জল থেকে নিয়ে তিনি জল একটি তামার পাত্রে রাখেন। আর সেখান থেকে পান করেন। বর্ষার সময় ভরে নেওয়া বৃষ্টির জলেই তাঁর দিব্যি সারাটা বছর কেটে যায় বলে জানিয়েছেন বসন্ত কুমার।

বর্ষা সাঙ্গারেড্ডি শহরে যথেষ্ট হয়। তাই গত ৩২ বছরে কখনও বৃষ্টির জল সংগ্রহ করতে সমস্যা হয়নি বসন্ত কুমারের। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস তিনি সুস্থ রয়েছেন, সব কাজ করছেন কেবলমাত্র বৃষ্টির জলের জন্য। আগে কেবল পানীয় জল হিসাবেই বৃষ্টির জল ব্যবহার করতেন। এখন তিনি রান্নাও বৃষ্টির জলেই করে থাকেন। অর্থাৎ শরীরে যে জল প্রবেশ করছে তা কেবল বৃষ্টির জল।

৩২ বছর আগে সুস্থ থাকতে বৃষ্টির জলে পুষ্ট একটি জলাশয়ের জল পান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তাঁর এক পরিচিত। তখনই বসন্ত কুমারের মনে হয় বৃষ্টির জলেই লুকিয়ে আছে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। সেই থেকে জীবনে আর বৃষ্টির জল ছাড়া অন্য জল পান করেননি তিনি। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button