Friday , December 13 2019
National News
এনসিপি ও কংগ্রেস নেতাদের বৈঠক, ছবি - আইএএনএস

মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন, বিজেপির হিতে পক্ষপাতিত্ব করছেন রাজ্যপাল, দাবি শিবসেনা, কংগ্রেসের

মহারাষ্ট্রে বিজেপি জানিয়ে দিয়েছে তারা সরকার গড়বে না। শিবসেনা পারলে সরকার গড়তেই পারে। যদিও শিবসেনা ভোটে তাদের জোটসঙ্গী ছিল। ভোটের পর বিজেপি ও শিবসেনার বিধায়ক মেলালে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতাও ছিল। সেখানে শিবসেনার শর্ত সরকার গড়তে গেলে তাদের সমানাধিকার চাই। সমান ক্ষমতা চাই। সরকারে সমান প্রতিনিধিত্ব চাই। এই ৫০-৫০ ফর্মুলা মেনে নিতে চায়নি বিজেপি। ফলে সংঘাত। আর তাতেই শিবসেনা স্পষ্ট করে দেয় হয় তাদের শর্ত মানতে হবে, নাহলে বিজেপির সঙ্গে তারা নেই। বিজেপিকে তাহলে তাদের ছাড়াই সরকার গড়তে হবে।

২৮৮ আসনের মহারাষ্ট্রে বিজেপি এবার ১০৫ আসনে জয়লাভ করেছে। শিবসেনা করেছে ৫৬ আসনে। যদিও বিজেপি ও শিবসেনার মধ্যে ভোটের আগেই আসন রফা হয়েছিল। অন্যদিকে এনসিপি জিতেছে ৫৪টি আসনে। কংগ্রেস জিতেছে ৪৪টি আসনে। এই পরিস্থিতিতে এনসিপি বা কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়ার বিজেপির প্রশ্নই নেই। সেক্ষেত্রে পড়ে থাকে নির্দল। তাদের রয়েছে ১৩টি আসন। ফলে তাদের সকলকে নিতে পারলেও বিজেপির পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব ছিলনা। বরং শিবসেনার অন্য রাস্তা খোলা ছিল। তারা এনসিপির সঙ্গে জোট করে সরকার গড়তে পারত। কিন্তু সেক্ষেত্রে এনসিপির সঙ্গে জোট করলেও শিবসেনার পক্ষে ম্যাজিক ফিগার ১৪৫-এ পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছেনা। এদিকে ভোটে আবার এনসিপি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ভোট লড়েছে। সেক্ষেত্রে তাদেরও কংগ্রেসের সঙ্গে কথা বলার দায় ছিল।

শিবসেনার সঙ্গে বৈঠকের পর শরদ পাওয়ারের এনসিপি জানিয়ে দেয় তারা জোট গঠনে রাজি। পরে তারা কংগ্রেসের সঙ্গেও বৈঠকে বসে। কংগ্রেসও অবশেষে এই জোটকে সরকার গঠনে সমর্থন দিতে রাজি। তবে তাদের আবার শর্ত হল উদ্ভব ঠাকরের ছেলে আদিত্য ঠাকরেকে মুখ্যমন্ত্রী করা চলবে না। এরমাঝে রাজ্যপাল ভগতসিং কোশিয়ারি সোমবার জানিয়ে দিয়েছিলেন শিবসেনাকে এনসিপি ও কংগ্রেসের সমর্থন জোগাড়ের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হল। সেই সময়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ না দিতে পারায় মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করে তিনি মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির কথা জানান। রাজ্যপালের সুপারিশের পর রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছেন। এরপরই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করে শিবসেনা ও কংগ্রেস।

শিবসেনা তো রাজ্যপাল পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের দাবি বিজেপিকে বেশি সময় দিলেও তাদের একদিন কম সময় দিয়েছেন রাজ্যপাল। বিজেপি নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য রাজ্যপালের থেকে বেশি সময় পেয়েছিল। কংগ্রেস তো সরাসরি রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তোপ দেগে জানিয়েছে রাজ্যপাল বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। গত ১৯৮০ সালে মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছিল। তারপর ফের ২০১৯ সালে সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হল। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *