ফের এক অন্য রূপে ধরা দিতে চলেছে চাঁদ। সেই চাঁদ দেখার জন্য এখন মুখিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। ভারতীয়রাও ব্যতিক্রম নন। যাঁরা মহাজাগতিক বিস্ময় দেখতে পছন্দ করেন, যাঁরা আকাশ দেখতে ভালবাসেন, তাঁদের জন্য দিনটা অবশ্যই উপভোগ্য হতে চলেছে। আর সেদিন খুব দূরে নয়।
দোল পূর্ণিমার চাঁদ এক বিরল রূপ নিয়ে সামনে আসতে চলেছে। দোলের রংয়ে রঙিন হবে চাঁদও। সন্ধে নামলে আকাশে দেখা যাবে লাল কৃমি চাঁদ। কৃমি চাঁদ তো সকলের জন্য, তবে সঙ্গে যুক্ত হবে চাঁদের গায়ে লাল রং। কারণ ৩ মার্চ কেবল পূর্ণিমাই নয়, সেই সঙ্গে চন্দ্রগ্রহণও।
এই দিন চাঁদ ও সূর্যের মাঝে চলে আসবে পৃথিবী। চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করবে। যে সময় সেটি হবে সে সময় পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর গিয়ে পড়বে।
পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়লে চাঁদকে লাল দেখাবে। যাকে বলা হয় ব্লাড মুন বা রক্ত চাঁদ। চাঁদের গা জুড়ে এই লালিমা সবচেয়ে বেশি উপভোগ করতে পারবেন উত্তর আমেরিকার পশ্চিমাংশ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং পূর্ব এশিয়া-র মানুষজন।
ভারত থেকে এই চন্দ্রগ্রহণ আংশিকভাবে দেখা যাবে। ভারতে যখন বিকেল ৩টে ২০ মিনিট তখন গ্রহণ শুরু হবে। চলবে সন্ধে ৬টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত। তাই ভারতের অনেক জায়গায় আংশিক গ্রহণই দেখা যাবে।
কারণ গ্রহণের অধিকাংশ সময় ভারতের আকাশে বিকেলের আলো থাকবে। তাই সন্ধে নামতে নামতে গ্রহণ চাঁদকে কিছুটা ছেড়ে দেবে। মানে পৃথিবীর ছায়া কিছুটা চাঁদের ওপর থেকে সরে যাবে। গ্রহণের কার্যত শেষের অংশই ভারতের মানুষ দেখতে পাবেন। স্থানভেদে গ্রহণ দেখার সুযোগ কম বেশি হবে।
মার্চ মাসের পূর্ণিমাকে আমেরিকা ও ইউরোপে আবার কৃমি চাঁদও বলা হয়। কারণ এই সময় শীত কেটে গরম পড়া শুরু হয়। গরম পড়তে শুরু করলে মাটি থেকে কেঁচো বা কৃমিরা বেরিয়ে আসতে থাকে। তাই এই পূর্ণিমা ওইসব জায়গায় কৃমি চাঁদ নামে খ্যাত।