থালা বাটি গ্লাসের গণ্ডি পেরিয়ে বাহারি ফুল হয়ে গেল সেরামিক
ছোটবেলায় কমবেশি সকলেই সেরামিকের তৈরি বাসনপত্র দেখেছেন। সেই চেনা কাপ ডিশ বা বাসনের গণ্ডি পার করে সেরামিক এবার ফুল হয়ে গেল।
মৌসুমি গুহ মান্না, কলকাতা : সেরামিক বললে প্রথমেই মনে আসে একটু অন্য ধরনের বাসনপত্রের কথা। যা সাদা বা রঙিন উভয়ই হতে পারে। আবার নকশা কাটা থেকে একেবারে সাধারণও হতে পারে। যাকে দেখতে খানিকটা চিনামাটির পাত্রের মত হলেও উভয়ের মধ্যে চরিত্রগত কিছু পার্থক্য রয়েছে।
সেরামিকের আক্ষরিক অর্থ হল দগ্ধজাত মাটি বা পোড়ামাটি। বিগত কয়েক বছর ধরেই আধুনিক প্রজন্ম সেরামিকের দিকে ঝুঁকেছে। তবে এবার সেই সেরামিকেও এসেছে বদল। মানুষের মস্তিষ্ক প্রসূত কিছু আধুনিক জিনিস এখন সেরামিক দিয়েও তৈরি হচ্ছে।
বাসনপত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেকদিন আগেই সেরামিক তার নতুন জয়যাত্রা শুরু করেছে। বহুদিন থেকেই সেরামিক দিয়ে আয়নার ফ্রেম, সাবান কেস, নুনদানি, ফুলদানি, ট্রে, মশলা রাখার পাত্র, পর্দার রডের হোল্ডার ইত্যাদি তৈরি হয়। কিন্তু এবার তার সঙ্গেই জুড়েছে গয়না আর ঘর সাজানোর জিনিস।
এখন সেরামিক দিয়ে তৈরি হচ্ছে রংবাহারি গয়না এবং ঘর সাজানোর জিনিস। তৈরি করছেন কলকাতারই শিল্পী ইন্দ্রাণী সাহা। সেরামিক নিয়ে তিনি বেশ অনেকদিন ধরেই কাজ করেন। আবার তিনি গয়না বানানোর কাজেও বেশ দক্ষ।
সেরামিকের জগতে নতুন কিছু উদ্ভাবন করার ভাবনা থেকেই ইন্দ্রাণী সাহা গয়না এবং গৃহসজ্জার জিনিস তৈরির চিন্তা করেন। তাঁর কাছে মহিলাদের পছন্দের হার, কানের দুল, লকেট, হাঁসুলি, ব্রোচ, আংটি সবকিছুই পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে তাঁর তৈরি সেরামিকের ফুল। ফুলদানিতে এখন অনেকেই রংবাহারি প্লাস্টিক বা কাপড়ের ফুল সাজিয়ে রাখেন। সেখানেই এবার জায়গা করে নিচ্ছে সেরামিকের ফুল। নজর কাড়ছে সেরামিকের গয়নাও।
সেরামিকের ফুল, ওয়াল হ্যাঙ্গিং, গাছ লাগানোর টব দিয়ে বাড়ির অন্দর সজ্জাও করা সম্ভব। রাজ্যের নানা মেলায় ঘুরে নিজের তৈরি অসাধারণ এইসব শিল্পকর্ম বিক্রি করেন ইন্দ্রাণী সাহা।













