কলকাতায় হাজির হচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধুরা, গন্তব্য অন্যত্র
বছরের শুরুতেই হিমালয়ের বিভিন্ন কোণা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধু সন্তরা হাজির হচ্ছেন কলকাতায়। তবে তাঁদের গন্তব্য মহানগরী নয়।
মৌসুমি গুহ মান্না, কলকাতা : কথায় আছে সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার। গঙ্গাসাগরই সেই মেলা যা কুম্ভমেলার পর ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাগম। এখানে দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তীর্থযাত্রী এবং সাধুরা এসে অংশ নেন। আগে গঙ্গাসাগর যাত্রা অত্যন্ত কঠিন ছিল। কিন্তু এখন সরকারের উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার কারণে একবেলাতেও গঙ্গাসাগর গিয়ে ফিরে আসা সম্ভব।
সাগরদ্বীপ বা পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ প্রান্তে যেখানে গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের মিলন ঘটেছে সেই জায়গাকেই বলা হয় গঙ্গাসাগর। প্রতিবছর মকর তথা পৌষসংক্রান্তির সময় এই গঙ্গাসাগর মেলা হয়। ৪ থেকে ৫ দিন চলে এই মেলা।
বিশ্বাস যে এই সময় গঙ্গাস্নান করলে সমস্ত পাপ ধুয়ে যায় এবং মোক্ষলাভ হয়। তাই সাধারণ মানুষ থেকে সাধু সন্ত, সকলেই এই সময় গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের উদ্দেশ্যে হাজির হন। পুণ্যস্নান ছাড়াও কপিল মুনির মন্দিরে পুজো দেওয়াও গঙ্গাসাগরে আসা তীর্থ যাত্রীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।
গঙ্গাসাগর মেলা মকরসংক্রান্তির দিন আয়োজিত হলেও এর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় অনেক আগে থেকেই। কলকাতার বাবুঘাটের অস্থায়ী ডেরা থেকে যাত্রা করে মকরসংক্রান্তির কয়েকদিন আগে সাধুরা গঙ্গাসাগরে গিয়ে পৌঁছন যাতে সংক্রান্তির দিন একদম সঠিক সময়ে তাঁরা গঙ্গায় ডুব দিতে পারেন।
ইংরাজি বছরের একদম প্রথম দিন থেকেই বাবুঘাটে সাধুদের সমাবেশ দেখা যাচ্ছে। উত্তরাখণ্ড, কামাখ্যা, কেদারনাথের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা বা জঙ্গল থেকে সাধুরা গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের উদ্দেশ্যে কলকাতায় এসে ভিড় জমিয়েছেন।
গঙ্গাসাগর মেলায় আগত সাধুদের মধ্যে অনেক নাগা সন্ন্যাসীও রয়েছেন। বাবুঘাটের সরকারি ক্যাম্পে গেলে এই মুহুর্তে যাঁদের দেখা মেলাও অসম্ভব নয়। হিমালয়ের দুর্গম স্থানে সাধন ভজনে নিজেদের সঁপে দেওয়া সাধুরা গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের জন্য এখানে হাজির হচ্ছেন। এইসব পুণ্যাত্মাকে সামনে থেকে দেখার এবং তাঁদের আশির্বাদ নেওয়ার জন্য পৌষসংক্রান্তির আগে বাবুঘাটে সাধারণ মানুষও ভিড় জমান।













