Kolkata

কেকের রসনায় মন ভরিয়ে চলেছে কলকাতার এই শতাব্দী প্রাচীন দোকান

বছর শেষে চড়তে থাকে উৎসবের আমেজ। আর এই বর্ষশেষের উৎসবে কেক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যার স্বাদে মন ভরিয়ে চলেছে কলকাতার এক শতাব্দী প্রাচীন দোকান।

মৌসুমি গুহ মান্না, কলকাতা : বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। প্রতিবারই ইংরেজি বছরের দোরগোড়ায় এসে বাঙালি মেতে ওঠে বছরের শেষ উৎসব ‘কেক পার্বণী’-তে। শহর জুড়ে এ সময় নানা স্বাদ, গন্ধের কেকের সমাহার দেখা যায়। বিশেষত হগ মার্কেট থেকে বো ব্যারাক অবধি সর্বত্রই কেকের গন্ধে ম ম করে।

বিদেশিদের কল্যাণেই একসময় বাংলায় কেকের আবির্ভাব ঘটে। কিন্তু বিদেশিরা বিদায় নিলেও রয়ে গেছে তাদের ঐতিহ্য। যার মধ্যে অন্যতম হল কেক। আর কেকের ক্ষেত্রে হগ মার্কেটের নাম সবসময়েই উপরের দিকে থাকে। যেখানে ছোট বড় বিভিন্ন দোকান প্রস্তুত তাদের কেকের পসরা সাজিয়ে।

কলকাতার হগ মার্কেট বা চেনা নিউ মার্কেট এলাকায় সারি দিয়ে রয়েছে কেকের দোকান। সারাবছরই যেখানে বিভিন্ন ধরনের কেক, পেস্ট্রি, প্যাটিসের ডালি নিয়ে দোকানিরা অপেক্ষা করেন ক্রেতার। কিন্তু বড়দিন আসার আগেই এই চিত্রটা বদলে যায়। ক্রেতাদের চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে বিক্রেতারা নাওয়া খাওয়ার সময় পান না।

নামী, অনামী বিভিন্ন দোকানের ভিড়ে সেখানে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন মল্লিক কনফেকশনার্স, ইমপেরিয়াল বেকারি এবং নাহুম অ্যান্ড সন্স-এর মত দোকান। ফরাসি কিংবা পার্সি বেকারিগুলির সঙ্গে একযোগে নিজেদের ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে চলেছে বাঙালি বেকারিগুলি। যাদের কাছে কেক, পেস্ট্রির সঙ্গেই পাওয়া যায় বিভিন্ন কুকিজ, প্যাটিস, পিৎজা এবং নানা আকারের পাউরুটি।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রমরমিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া এমনই এক বাঙালি বেকারির নাম মল্লিক কনফেকশনার্স। ব্রিটিশ যুগ থেকে শুরু হয়ে বর্তমানে মল্লিকদের চতুর্থ প্রজন্ম এই ব্যবসার মালিকানা সামলাচ্ছে। বর্তমান মালিক আব্বাস উদ্দিন মল্লিক জানালেন, এখনকার চড়া বাজারেও তাঁরা ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে জিনিস বিক্রি করেন।

মল্লিক কনফেকশনার্সে ৭০ টাকা থেকে ফ্রুট কেক, ১৫ টাকা থেকে বিভিন্ন স্বাদের পেস্ট্রি, কাপ কেক, ক্রিম রোল, বিস্কুট কেক, ২০ টাকায় ভেজ প্যাটিস এবং ৩০ টাকায় চিকেন প্যাটিস পাওয়া যায়। ১ পাউন্ড বার্থডে কেকের দাম শুরু ১২০ টাকা থেকে। ১ দিন আগে বললে তারা ক্রেতাদের পছন্দমত কেকও বানিয়ে দেয়। এইসব শতাব্দী প্রাচীন দোকানগুলি শুধু দোকান নয়, কলকাতার ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *