৫ হাজার ৩০০ বছর পুরনো মমির ভিতরে প্রাণের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা

মমি যাঁর তিনি তো গত হয়েছেন ৫ হাজার ৩০০ বছর হল। কিন্তু সে মমির অভ্যন্তরে যে এখনও প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে তা দেখে কার্যতই হতবাক বিজ্ঞানীরা।

আল্পস পর্বতমালা, ছবি - সৌজন্যে - উইকিমিডিয়া কমনস

৫ হাজার ৩০০ বছর পুরনো এক মমি সু-সংরক্ষণের কারণে আজও রয়ে গেছে ঠিকই, তবে তার ভিতর প্রাণ থাকাটা এতদিন অসম্ভব বলেই মনে হয়েছে সকলের। মমি একটি পদ্ধতি যার হাত ধরে প্রাণত্যাগের পর দেহটি সংরক্ষিত করা যায়।

ইতালিতে আল্পস পর্বতে তিরের আঘাতে প্রাণ যায় এক ব্যক্তির। সেটা ৫ হাজার ৩০০ বছর আগের কথা। সে সময় পরলোকগত ওই ব্যক্তির দেহটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাকে মমি করে রাখা হয়েছিল। যাকে আধুনিক সময়ে সকলে চেনেন ওতজি নামে। ইতালির মিউজিয়ামে তা রয়েছে।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এমন একটি বিষয় ওই ওতজির মমিতে দেখতে পেয়েছেন যা তাঁদের অবাক করে দিয়েছে। তাঁরা ওই মমির অন্ত্রে আণুবীক্ষণিক প্রাণের স্পন্দনের খোঁজ পেয়েছেন।

সেখানে এমন কিছু প্রাগৈতিহাসিক অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে যা আধুনিক মানবদেহে পাওয়া যায়না। তবে মুষ্টিমেয় কিছু আদিবাসীদের শরীরে এখনও তা রয়ে গেছে। শুধু ব্যাকটেরিয়া নয়, সেই সঙ্গে সক্রিয় দেখা গেছে ইস্ট ছত্রাকও।

ওতজি তিরবিদ্ধ হওয়ার সময় তার পেটে ছিল মাংস, শস্যদানার মত খাদ্য। যা এই অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াদের সংসার পাততে সাহায্য করে। প্রবল ঠান্ডায় সংরক্ষণ করা হলেও সেই ঠান্ডা ওই ব্যাকটেরিয়াদের কাবু করতে পারেনি।

এখন প্রশ্ন হল এতদিন পরেও ওই ব্যাকটেরিয়ারা বেঁচে আছে কীভাবে? কি তাদের বাঁচিয়ে রাখছে? বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, মিউজিয়ামে ওই মমি সংরক্ষণের জন্য ফেনল নামে যে রাসায়নিক ব্যবহার হয়, সেটাই ওই ব্যাকটেরিয়া ও ইস্টকে প্রয়োজনীয় খাদ্যের যোগান দিয়ে চলেছে। ফলে তারা এখনও ওতজির অন্ত্রে সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।