স্ত্রীর ওজনের বিয়ার হল পুরস্কার, সেটা পেতে স্ত্রীদের কাঁধে তুলে ছোটেন স্বামীরা

স্ত্রীর ওজনের সমান বিয়ার পেতে চাইলে একটু কসরত তো করতেই হবে। কাজটা বেশ অন্যরকম। স্ত্রীকে কাঁধে নিয়ে ছুটতে হবে স্বামীকে।

স্ত্রী কাঁধে দৌড়, ছবি – সৌজন্যে – ইউটিউব – @tapio_l

একটা লম্বা ট্র্যাক। তাতে ২ ধরনের বাধার সৃষ্টি করা হয়। ২টো শুকনো বাধা এবং ১টা জলকাদা দিয়ে তৈরি বাধা। তার মধ্যেই পরপর দাঁড়িয়ে রয়েছেন কয়েকজন পুরুষ। তাঁদের প্রত্যেকের কাঁধে বসে আছেন একজন করে মহিলা।

খুব অদ্ভুত লাগছে তাইতো? এটা একটা বিশেষ ধরনের প্রতিযোগিতা। নাম ‘স্ত্রী বহন প্রতিযোগিতা’ বা ইউকোনকান্তো। প্রতিবছর ফিনল্যান্ডের সোনকাজারভিতে প্রতিযোগিতাটি হয়। পুরুষ প্রতিযোগীরা বিভিন্নরকম বাধা পেরিয়ে তাঁদের স্ত্রীদের কাঁধে নিয়ে প্রায় ২৫৪ মিটার পথ দৌড়ন।

পুরুষরা তাঁদের সঙ্গিনীদের পিগিব্যাক, ফায়ারম্যান, এস্তোনিয়ান ইত্যাদি বিভিন্ন স্টাইলে বহন করেন। এই প্রতিযোগিতার লক্ষ্য হল সবচেয়ে কম সময়ে বাধাগুলি অতিক্রম করা। যে ব্যক্তি বিজয়ী হন তাঁকে তাঁর স্ত্রীর ওজনের সমান বিয়ার পুরস্কার হিসাবে দেওয়া হয়।

কথিত আছে, উনবিংশ শতাব্দীর শেষে হ্যারাকো রসভো নামে এক ডাকাত তর দলের লোকদের শারীরিক শক্তি বাড়ানোর জন্য ভারী বস্তা কাঁধে দৌড় করাত। পরে সেই বস্তার জায়গা নেন স্ত্রীরা। ডাকাতি করতে গিয়ে তারা গ্রামের মহিলাদেরও কাঁধে তুলে নিয়ে পালাত।

সেটাই ১৯৯২ সাল থেকে স্ত্রী বহনকারী প্রতিযোগিতা নামে জনপ্রিয়তা পায়। খেলায় স্ত্রীর বয়স অবশ্যই ১৭ বছরের বেশি এবং ওজন কমপক্ষে ৪৯ কেজি হতে হবে। পুরুষ প্রতিযোগী একটি বেল্টের সাহায্যে স্ত্রীকে বেঁধে নেন।

এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন মজার দৃশ্যও দেখা যায়। যেমন অনেকসময়েই দৌড়তে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন স্বামী। তাঁর স্ত্রীও তখন স্বামীর কাঁধ থেকে ছিটকে পড়েন। এসব আঘাত থেকে বাঁচতে প্রত্যেক প্রতিযোগী মাথায় হেলমেট পরেন।‌ বীমাও করে রাখেন।