মোহনবাগানের প্রাক্তন কোচের রণকৌশলে ১৩৫ তম ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের সামনে দাঁড়াতেই পারল না মোহনবাগান। ভাদ্রের বিকেলে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ২ দলের এই ডার্বি ঘিরে রবিবারের বিকেলে ২ পক্ষের সমর্থকে পূর্ণ ছিল স্টেডিয়াম। খেলা শুরুর পর থেকেই কিন্তু মোহনবাগানের রক্ষণভাগের দুর্বলতা সামনে আসতে থাকে। যদিও রক্ষণের কথা না ভেবে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার দিকেই নজর দেয় সবুজ মেরুন ব্রিগেড।
কিন্তু রক্ষণ দুর্বল হওয়ায় খেলার ১০ মিনিটেই লাল হলুদ প্রথম গোল পেয়ে যায়। ১০ মিনিটের মাথায় বিপিন সিং মোহন জালে বল জড়িয়ে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন।
এর ঠিক ২ মিনিটের মাথায় ইস্টবেঙ্গলের এডমুন্ড আবার গোল করে ২-০-তে এগিয়ে দেন লাল হলুদকে। ১২ মিনিটে ২ গোল খেয়ে কার্যতই চাপে পড়ে যায় মোহনবাগান। কিন্তু সেই চাপ আরও বাড়ে খেলার ২২ মিনিটে। এডমুন্ড আরও একটি গোল করে ব্যবধান ৩-০ করে দেন।
খেলার ৩৩ মিনিটে মোহনবাগানের মনবিন্দর সিং একটি গোল শোধ করেন। খেলার ফল দাঁড়ায় ৩-১। এ সময় মোহনবাগানের সমর্থকেরা সামান্য হলেও আশার আলো দেখেন যে এবার হয়তো জেগে উঠবে সবুজ মেরুন।
কিন্তু খেলার ৪৪ মিনিটের মাথায় ফের ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল করেন এডমুন্ড। পরপর ৩ গোল করে হ্যাটট্রিকও করেন। আর ইস্টবেঙ্গলকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। প্রথম অর্ধ শেষ হওয়ার মধ্যেই খেলায় ৫টি গোল হয়ে যায়।
বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গলকে দ্বিতীয় অর্ধে মোহনবাগান নতুন কোনও পরিকল্পনায় চাপে ফেলতে পারে কিনা সেদিকে চেয়েছিলেন মোহন সমর্থকেরা। কিন্তু দ্বিতীয় অর্ধে ম্যাচ জেতার মত মরিয়া প্রচেষ্টা একেবারেই দেখা যায়নি সবুজ মেরুনের।
মোহনবাগান খেলোয়াড়দের ছন্নছাড়া খেলা দেখে মনে হয়েছে তাঁরা যেন খেলা শেষ হওয়ার আগেই হেরে গিয়েছেন। তেমন কোনও বড় আক্রমণও তৈরি করতে পারেনি মোহনবাগান।
এদিন দ্বিতীয় অর্ধে কোনও গোল না হলেও মোহনবাগানকে খেলায় ফিরতে দেয়নি ইস্টবেঙ্গল। পুরো ম্যাচে দাপটের সঙ্গে খেলে এশিয়ার সবচেয়ে পুরনো ফুটবল প্রতিযোগিতার ১৩৫ তম অধ্যায় জিতে নেয় ইস্টবেঙ্গল। এরফলে ডুরান্ড কাপ জেতার অঙ্কে ২ দলই ১৭-তে গিয়ে দাঁড়াল।