Feature

শ্রমিকের পোশাক হল আভিজাত্যের নিশান, কেমন করে ঘটে সেই ঘটনা

আধুনিক প্রজন্মের কাছে ডেনিম জিনস এখন ফ্যাশন। নামীদামী সংস্থা এখন ডেনিম জিনস বানাচ্ছে। দামও অনেক। কিন্তু ডেনিম জিনস জন্ম নিয়েছিল একদম অন্য প্রয়োজনে।

ডেনিম জিনস আধুনিক প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কাছে এক অবশ্য পোশাক হয়ে উঠেছে। নামী সংস্থার ছাপ, প্রচুর দামের হাত ধরে ভাল ডেনিম জিনস এখন আভিজাত্যের অন্য নাম।

ডেনিম জিনস বা নীল জিনস কিন্তু মোটেও ফ্যাশনের আর এক নাম ছিলনা। তার জন্ম হয়েছিল একেবারেই অন্য কারণে। যে জিনস কিনতে এখন মোটা অর্থ ব্যয় করতে হয়, সেই জিনস ছিল শ্রমিকদের পরিধেয় বস্ত্র।

১৮৭৩ সালে লিভাই স্ট্রস নামে এক ব্যবসায়ী জ্যাকব ডেভিস নামে এক দর্জির সঙ্গে মিলে এক বিশেষ ধরনের প্যান্টের জন্ম দেন। কারণ তখন যাঁরা শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন তাঁরা যে প্যান্ট পরতেন তা খুব দ্রুত ছিঁড়ে যেত।

এটা নিয়ে একটা সমস্যায় ভুগছিলেন তাঁরা। তাঁরা চাইছিলেন একটা শক্তপোক্ত কাপড়ের প্যান্ট, যা সারাদিন কাজ করলেও ছিঁড়বে না, বহুদিন ঠিক থাকবে। লিভাই আর জ্যাকব মিলে তেমনই একটি প্যান্টের জন্ম দিলেন। যার নাম হল জিনস।


ডেনিম জিনসই তখন ব্যবহার হত। মার্কিন শ্রমিকরা তা পরে কাজ করতে শুরু করে এতটাই খুশি হলেন যে তা দ্রুত শ্রমিক মহলে জনপ্রিয় হয়ে গেল।

এ প্যান্টের ওপর যতই যাই হোকনা কেন তা ছেঁড়ে না। এতে কিছু রিভেট ব্যাবহার করে তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিলেন জ্যাকব।

সেই যে আমেরিকায় জিনস পরার প্রচলন শ্রমিকরা শুরু করলেন তা বহুকাল পর্যন্ত শ্রমিকদের পরিধেয় হিসাবেই থেকে গিয়েছিল। ১৯৫০ সালের পর থেকে ক্রমে তা শ্রমিকদের গণ্ডি পার করে সাধারণ মানুষের পরিধেয় হয়ে উঠতে শুরু করে।

বলা বাহুল্য এখন শ্রমিকরা নন, অভিজাত মানুষ জিনস পরতে পছন্দ করেন। সেদিনের লিভাইস আজও জিনসের জগতে এক অন্যতম সেরা নামী জিনসের সংস্থা।

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button