বিখ্যাত স্টোনহেঞ্জ তৈরি হওয়ারও প্রায় ১ হাজার বছর আগে ইউরোপের মানুষ কি আকাশের সূর্য আর চাঁদের গতিপথ মেপে বিশাল কোনও পবিত্র স্থান বানিয়েছিল? চেক প্রজাতন্ত্রের শেলবির কাছে পাওয়া প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বছরের পুরনো এক বিস্ময়কর স্থাপনা সেই প্রশ্নই তুলছে।
প্রত্নতত্ত্ববিদরা এখানে ২৩০ মিটার চওড়া, প্রায় বৃত্তাকার একটি বিশাল জায়গা বিশ্লেষণ করেছেন। সবচেয়ে রহস্যময় বিষয় হল, এর ১২টি প্রবেশপথ যেন এলোমেলোভাবে তৈরি হয়নি।
গবেষকদের মতে, কয়েকটি প্রবেশপথের অবস্থান উত্তরায়ণ এবং দক্ষিণায়নের সময় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দিকের সঙ্গে মিলে যায়। শুধু তাই নয়, চাঁদের প্রায় ১৮ বছরের দীর্ঘ চক্রে চাঁদ আকাশে যে চূড়ান্ত অবস্থানে পৌঁছয়, তার সঙ্গেও কিছু বিন্যাসের মিল পাওয়া গেছে।
এর অর্থ, হাজার হাজার বছর আগে এখানকার মানুষ শুধু ঋতু নয়, চাঁদের দীর্ঘমেয়াদি গতিবিধিও লক্ষ্য করতেন, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কোনও আধুনিক যন্ত্র ছাড়াই তাঁরা নিয়মিত আকাশ পর্যবেক্ষণ করে এই বিন্যাস ঠিক করেছিলেন কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
জায়গাটিতে ষাঁড়ের মাথা এবং শিংও পাওয়া গেছে। এগুলি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ইঙ্গিত দিতে পারে। ফলে জায়গাটি শুধু বসতি বা প্রতিরক্ষামূলক কোনও স্থাপনা ছিল, নাকি আকাশ পর্যবেক্ষণ ও আচার, উভয়েরই কেন্দ্র, তা নিয়ে রহস্য গভীর হয়েছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার, এই বিশাল উপাসনা স্থল স্টোনহেঞ্জের প্রায় ১ হাজার বছর আগের। তাহলে কি ইউরোপের প্রাগৈতিহাসিক মানুষ আকাশকে ক্যালেন্ডার বানিয়েই পবিত্র স্থাপত্য তৈরি করেছিলেন? উঠছে প্রশ্ন।