World

১০ সন্তানকে নিয়ে যুবকের কানে সংসার পাতল আরশোলা

আরশোলা নাকি এমন এক প্রাণি যে যেকোনও পরিস্থিতিতে বাঁচার উপায় খুঁজে নেয়। যেকোনও জায়গায় নিশ্চিন্তে সংসার পেতে ফেলে। তাবলে মানুষের কান! এটাই বোধহয় আরশোলার সংসার পাতার জায়গা হিসাবে বাকি ছিল! সেটাও এবার পূরণ হল। রাতে ঘুমোলেই কানে একটা প্রবল যন্ত্রণা হচ্ছিল ২৪ বছরের যুবক এলভি-র। কানের মধ্যে কেউ যেন আঁচড় কাটছে। কুড়ে কুড়ে দিচ্ছে। যন্ত্রণা অসহ্য হয়ে ওঠায় তিনি হাজির হন ইএনটি চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসক তাঁর কানের যন্ত্রণার কারণ খুঁজতে গিয়ে তো থ!

ঘটনাটি ঘটেছে চিনের হুইয়াং জেলায়। এখানেই একটি হাসপাতালে ওই যুবককে পরীক্ষা করেন চিকিৎসক। ডান কানের ফুটোয় নজর দিতেই তিনি চমকে ওঠেন। দেখেন সেখানে দিব্যি নেচেকুঁদে বেড়াচ্ছে ১০টি আরশোলার ছানা। আর এক কোণায় বসে সন্তানদের খেলাধুলো দেখছে মা আরশোলা। মা আরশোলা আকারে বড়। রংও পাকা। তুলনায় ছানা আরশোলাগুলোর গায়ে এখনও রং হাল্কা। কানের মধ্যে এমন আরশোলার সংসার প্রত্যক্ষ করার পর প্রাথমিক চমক কাটিয়ে এলভি-র কান থেকে আরশোলা বার করায় মন দেন চিকিৎসক। কিন্তু সেটাও তো মুখের কথা নয়।

Cockroach
প্রতীকী ছবি

চিকিৎসক একটি সন্না দিয়ে প্রথমে একটি একটি করে অতি সন্তর্পণে ছোট আরশোলাগুলোকে বার করে আনেন। পরপর ১০টি এমন আরশোলার ছানা বার হয় কান থেকে। এরপর ছিল বড়টার পালা। প্রমাণ আকারের মা আরশোলাকেও ওই সন্না দিয়েই চেপটে ধরে টেনে বার করে আনেন চিকিৎসক। যথেষ্ট সন্তর্পণে কাজটা পুরো করতে হয়। নাহলে কানের ক্ষতি হতে পারত।

কিন্তু এত মানুষ রয়েছেন, এভাবে তাঁদের কানের মধ্যে আরশোলা তো বাসা বাঁধে না! তাহলে এলভি-র কানে এমন সংসার মা আরশোলা পাতল কী করে? এরও উত্তর দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। আসলে এলভি-র স্বভাব হল খাবার বিছানায় খাওয়া। আর যতটুকু খেতে পারেননা, তা বিছানায় রেখে তার পাশেই ঘুমিয়ে পড়েন। এটাই তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস। যারফল হয়েছে মারাত্মক। তাঁর ঘরে আরশোলারা রাতে তাঁর ফেলে রাখা খাবার নিয়ে রীতিমত পিকনিক করে। যারফলে তাঁর মাথার কাছেই প্রচুর আরশোলার ভিড় জমে। তারই মধ্যে একটি আরশোলার ডিম পাড়ার জন্য এলভি-র কর্ণ প্রকোষ্ঠ পছন্দ হয়েছিল হয়তো। তারই জেরে এলভি-র কানে সংসার পাতে সে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button