মানুষ যখনই বেঁচে থাকার পথ খুঁজেছে তখনই তারা আবিষ্কার করেছে। উপায় খুঁজে নিয়েছে। এমন নয় যে সবসময় আধুনিক উপায় হতে হবে। প্রযুক্তি নির্ভর উপায় হতে হবে।
৪০০ বছর আগেও মানুষ এমন উপায় বার করেছিলেন যা এখনও বজায় রয়েছে। আধুনিক উপায়ের ঘনঘটাও তার বিকল্প খুঁজে বার করতে পারেনি।
যেমন বিখ্যাত দ্বীপ বারমুডা। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ভেসে থাকা এই ব্রিটেন অধিকৃত দ্বীপপুঞ্জটিতে অনেক মানুষের বাস। ৪০০ বছর আগে এখানে প্রথম মানুষের পা পড়ে। তৈরি হয় বসতি।
কিন্তু সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আসা মানুষজন দেখেন বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় মিষ্টি জল এখানে কোথাও নেই। না আছে নদী, না আছে কোনও ঝর্না, না আছে কোনও পুকুর বা দিঘি। চারধারে শুধু নোনা জলের সমুদ্র।
এখানে থাকলে জল পানের কী হবে? জীবনধারণের জন্য মিষ্টি জলের প্রয়োজন তো সবসময় পড়বে। তাই তাঁরা সেখানে বসবাসের জন্য উপায়ও বার করে ফেললেন।
তাঁরা সে সময় যে ঘর বানাতেন সেখানে ওই দ্বীপে সহজেই পাওয়া যাওয়া লাইম স্টোন দিয়ে ছাদ বানাতেন। সেই ছাদ আবার ধাপে ধাপে সিঁড়ির মত দেখতে হত। পরিচিত ছাদের মত নয়।
এই ছাদের ওপর যখন বৃষ্টি পড়ত তখন বৃষ্টির জল ছাদের সিঁড়ির মত ধাপ বেয়ে নেমে আসত নিচে। প্রতিটি বাড়িতেই মাটির তলায় জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল।
ছাদ থেকে নামা বৃষ্টির জল পাইপের মত পথ বেয়ে গিয়ে জমা হত সেই জল সংরক্ষণের জন্য তৈরি জায়গায়। সেখানে বৃষ্টির জল জমা হয়ে থাকত। সেটাই কাজে লাগত পান করা থেকে যাবতীয় গৃহস্থালি কাজের জন্য।
৪০০ বছর কেটে গেলেও বারমুডায় বাড়ির ছাদ এভাবে সিঁড়ির মত ধাপে ধাপে নেমে আসে। বারমুডা প্রবল ঝড়বৃষ্টি প্রবণ স্থান। তাই এখানে বৃষ্টির অভাব নেই। সেই জল তাই জমা হতে থাকে প্রতি বাড়ির জলাধারে। এটাই এখনও চলে আসছে বারমুডায়। যা এখানকার বাসিন্দাদের আজও পানীয় জলের একমাত্র সংস্থান।