Feature

৩০০ বছর আগেও শহরে বরফ তৈরি হত বিনা ফ্রিজেই, উপায় ছিল অভিনব

বরফ তৈরির জন্য এখন ফ্রিজ রয়েছে। আরও বড় বরফের চাঁই তৈরির জন্য বরফ তৈরির কারখানা রয়েছে। কিন্তু ৩০০ বছর আগে এসব ছিলনা। তখনও কিন্তু বরফ তৈরি হত।

গরমে শরীরকে ঠান্ডা করতে বরফ তো লাগে। বরফ সরবতে, জলে মিশিয়ে দিলে শরীর জুড়োয়। এখন বরফের টুকরো পাওয়াটা কোনও বড় ব্যাপার নয়। ফ্রিজ তো রয়েছেই। কিন্তু ৩০০ বছর আগে কলকাতা শহরেই তৈরি হত বরফ। আর তা সুরক্ষিতভাবে রাখাও হত। সেই বরফ তৈরির উপায় হতবাক করে দিতে পারে।

প্রথমে একটি বিশাল অংশ জুড়ে চৌকো করে মাটি কেটে নেওয়া হত। তারপর তা ২ ফুট গভীর করা হত। এবার সেই চৌকো গর্তের মেঝেতে আখের যে মোটা লম্বা লম্বা ছাল বার হয় তা ছড়িয়ে দেওয়া হত।

এবার সেই আখের ছালের বিছানার ওপর বসানো হত পাতলা মাটির পাত্র। এমন অনেক পাত্র গায়ে গায়ে লাগিয়ে বসিয়ে দেওয়া হত। এখানে বলে রাখা ভাল এই পুরো কর্মকাণ্ড কিন্তু সারা বছর হতনা। হত কেবল ডিসেম্বর, জানুয়ারি মাসে।

যে মাটির পাতলা পাত্রগুলি গায়ে গায়ে বসিয়ে ওই চৌকো বিশাল গর্ত ভরে ফেলা হত, সেইসব পাত্রে সন্ধে নামলে জল ঢালা হত। জল সাধারণ তাপমাত্রার হলে হবে না। হত ফোটানো গরম জল।


সেই গরম জল পাত্রগুলিতে ঢেলে ভর্তি করে ছেড়ে দেওয়া হত। যাঁরা বরফ তৈরির জন্য এই পাত্র ভরে দিতেন, তাঁরা সারারাত পার করে একদম কাকভোরে এসে হাজির হতেন সেখানে।

দেখা যেত শীতকালের ঠান্ডায় সেই পাত্র ভরা গরম জল জমে বরফ হয়ে গেছে। এবার সেই বরফগুলো পাত্র থেকে অনেক ঝুরি এনে তাতে ঢেলে নিতেন তাঁরা। সবই হত একদম ভোরে।

এবার এই বরফের ঝুরি নিয়ে একটু উঁচু কোনও জায়গায় নিয়ে যাওয়া হত। সেখানে একটি গভীর চৌকো গর্ত খনন করে রাখা থাকত। যার তলায় পাতা হত খড়।

খড়ের মোটা পরতের ওপর এবার নিয়ে আসা বরফগুলি ঢেলে দেওয়া হত। এবার সেই গর্ত একটি কম্বল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হত। কম্বল দিয়ে ঢেকে মোটা কিছু দিয়ে কম্বলের ওপর পেটানো শুরু করতেন অনেকে মিলে। তাতে পাত্রের আকারের বরফগুলি ভেঙে টুকরো হয়ে যেত।

এই টুকরোগুলো ঠান্ডায় জমে একটি অতিকায় বিশাল বরফের চাঁই তৈরি করত। এবার সেই বরফের চাঁই পুরু করে গাছের পাতা, ঘাস এসব দিয়ে ঢেকে তার ওপর মোটা কম্বল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হত।

এই ঢাকা এমনভাবেই করা হত যাতে ভিতরে এতটুকুও হাওয়া প্রবেশ করতে না পারে। কেন জানেন? কারণ ওই বরফ কেবল শীতেই ব্যবহার হতনা। ওই বরফ থেকে যেত গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত।

গ্রীষ্মের প্রবল গরমেও বরফের টুকরো দিয়ে দিব্যি প্রাণ জুড়োতেন তখনকার মানুষজন। তাও আবার সেই অষ্টাদশ শতাব্দীর কলকাতায়। এ কাহিনি ইংরেজ সাহেব রবার্ট বার্কারের একটি লেখায় পাওয়া যায়।

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button