এখানে সাপের সঙ্গে এক ঘরে বাস করেন মানুষ, ছোবলকে বলেন প্রসাদ
মাত্র কয়েকটি গ্রাম। সেখানে কিন্তু সাপকে সাপ বলা যাবেনা। তাদের অন্য নাম রয়েছে। এখানে কেউটে গোত্রীয় সাপকে দেবীজ্ঞানে পুজো করা হয়।
সাপ ও মানুষের সখ্যতাটা খুব কমই দেখা যায়। যেখানে সাপের প্রকোপ বেশি সেখানে মানুষ সাপের সঙ্গে কীভাবে দিন কাটাতে হবে তার কৌশল রপ্ত করে নেন। কিন্তু এই পশ্চিমবঙ্গেই এমন কয়েকটি গ্রাম রয়েছে যেখানে সাপকে দেবীজ্ঞানে পুজো করা হয়।
এখানে পবিত্র জল, দুধ দিয়ে পুজো পায় সাপ। সাপের মাথায় এই দুধ, জল ঢালা হয়। এখানে প্রায় প্রতিটি ঘরেই এই সাপের দেখা পাওয়া যায়। ঘরের সদস্যদের সঙ্গে সাপের এই সহবাস রীতিমত নজর কাড়ে।
বাইরের কেউ গেলে ভয়ও পেয়ে যেতে পারেন। কিন্তু এই গ্রামগুলিতে কেউটে গোত্রীয় এই সাপের সঙ্গে মানুষের কোনও বিবাদ নেই। পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে একসঙ্গেই বসবাস করে।
পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ও মঙ্গলকোটে কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। মুসারু, পলসোনা, ছোট পোষলা, বড় পোষলা-র মত গ্রামগুলিতে কেউটে গোত্রীয় এই বিশেষ সাপের পুজো হয়। এখানে সাপকে কেউ সাপ বলেন না। এসব গ্রামে সাপ বলা কার্যত মানা।
সাপকে গ্রামবাসী ঝাঁকলাই বলে ডাকেন। ঝাঁকলাই তাঁদের কাছে দেবী। এই গ্রামগুলিতে সাপ মানে কালনাগিনী। মনসামঙ্গল কাব্যে লখিন্দরকে দংশন করা কালনাগিনী। এখানে ঝাঁকলাই দেবীর মন্দিরও রয়েছে। যেখানে শ্রাবণ মাসে খুব বড় করে পুজোর আয়োজন হয়।
এখানে মনে হতেই পারে ছোবল মারতে পারে সাপ। তাহলে কি হবে? এখানকার মানুষ কিন্তু সর্পাঘাতে আক্রান্ত প্রায় হন না বললেই চলে। যদিও বা কদিচ কখনও হন তাহলেও তাঁদের বিশ্বাস সে ছোবল দেবীর প্রসাদ সম। ঝাঁকলাই দেবীর মন্দিরে নিয়ে গিয়ে সর্পাঘাতে আক্রান্তের চিকিৎসা করা হয়।













