শোলা শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অপূর্ব গাথা, জল থেকে আবির্ভূত হন এক মালাকার
বাংলার শিল্পকলার জগতে বহুদিন ধরেই শোলার কদর রয়েছে। শোলা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। এই শোলার জন্ম নিয়ে লোকমুখে ঘোরে এক চমকপ্রদ কাহিনি।
মৌসুমি গুহ মান্না, কলকাতা : কথিত আছে, পার্বতীকে বিয়ে করার সময় মহাদেবের শ্বেত মুকুট পরার ইচ্ছা হয়েছিল। দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা তখন মুকুট তৈরির উপাদানের কথা ভাবতেই শিবের ইচ্ছায় জলাশয়ে একধরনের উদ্ভিদ জন্মায়। সেটাই শোলা গাছ।
বিশ্বকর্মা শোলার মত নরম উপাদানে জিনিস বানাতে পারতেন না। তাই ভগবান মহাদেবের ইচ্ছায় জলাশয়ে এক যুবকের আবির্ভাব ঘটে। যাঁকে বলা হয় মালাকার। তিনি শোলা দিয়ে শিবের মুকুট বানিয়ে দেন।
সেই থেকেই শোলা শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষদের মালাকার বলা হয়। যাঁরা বংশানুক্রমে শোলা দিয়ে টোপর, অলঙ্কার, মালা, খেলনা, চালচিত্র, ফুল, পুতুল, গৃহসজ্জার জিনিস তৈরি করেন। ঠাকুরের অলঙ্কারও তৈরি হয় শোলা দিয়ে।
শোলা শিল্প বাংলার অন্যতম লোকশিল্পের মধ্যে পড়ে। শোলার উৎপাদন কম এবং এটি পুরোপুরিভাবে প্রাকৃতিক উপাদান। তাই শোলা দিয়ে তৈরি যে কোনও শিল্পের দামও যেমন বেশি হয় তেমনই তা রক্ষা করাও বেশ কঠিন কাজ।
মুর্শিদাবাদের শোলা শিল্পের বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে। শোলা আসলে একধরনের গাছ। যা থেকে শোলা শিল্প নামে হস্তশিল্পের কাজ করা হয়। শোলার শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে তেমন কোনও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়না। একটি ধারাল ছুরি ও একখণ্ড পাথর বা কাঠই যথেষ্ট।
প্রথমে ছুরির সাহায্যে শোলাকে পাতলা টুকরোয় কেটে নেওয়া হয়। পরে প্রয়োজন অনুসারে ওই টুকরোগুলোকে আঠার সাহায্যে জুড়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া হয়। শোলা শিল্পীরা সাধারণত নিজেরাই তেঁতুল বিচির আঠা তৈরি করে নেন। যদিও বর্তমানে কেনা আঠাও ব্যবহার করা হয়।
মুর্শিদাবাদের অনেক শিল্পী শোলার কাজ করেই তাঁদের জীবনযাপন করেন। বছরে কয়েকটা মেলায় অংশ নেন এবং সেখানে জিনিস বিক্রির সাথে যোগাযোগের মাধ্যমও তৈরি হয়। সারাবছর দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্ডার পান এবং চাহিদা অনুযায়ী জিনিস সরবরাহ করেন। তবে হাতের কাজের কদর থাকলেও সেভাবে তার মূল্য না পাওয়ার একটা আক্ষেপ এই শিল্পীদের রয়ে গেছে।













