জিভে জল আনা শিউলি গুড়ের স্বাদই আলাদা, কোথায় গেলে পাবেন এই গুড়
শীতকাল এলেই বাঙালি এবং খেজুর গুড়ের মধ্যে একটা গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। শীতের সকালে তাজা খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি হতে দেখাও এক দারুণ অভিজ্ঞতা।
মৌসুমি গুহ মান্না, কলকাতা : শীত মানেই গুড়। সে গুড়ের প্রকারভেদও অনেক। নলেনগুড়, নরম পাটালি, শক্ত পাটালি, দানা গুড়, কত ধরনের গুড় যে এই সময় বাজারে পাওয়া যায় তা বলে শেষ করা যাবেনা।
শীতের গুড় দিয়ে তৈরি পিঠেপুলি, পায়েস, মিষ্টির স্বাদই আলাদা হয়। মকরসংক্রান্তির দিন প্রতিটা বাঙালির রান্নাঘর ম ম করে গুড়ের সুঘ্রাণে। কিন্তু অনেকেই অনভিজ্ঞতার কারণে বাজার থেকে ভেজাল গুড় কিনে আনেন। ফলে পিঠে পায়েসের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়।
এ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় গুড় তৈরি হয়। সবচেয়ে বেশি পরিমাণে গুড় তৈরি হয় নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এছাড়া বীরভূম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং হুগলি জেলার কিছু জায়গাতেও শিউলি বা গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস নামিয়ে জ্বাল দিয়ে নিজেরা গুড় তৈরি করেন। এ গুড়ের স্বাদই আলাদা।
অনেকে নিজের বাড়ির খেজুর গাছের রস জ্বাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুড় তৈরি করেন। যার মধ্যে নলেনগুড় এবং নরম পাটালির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এই নরম পাটালিকে অনেক গুড় প্রস্তুতকারক ‘পায়েস স্পেশালিষ্ট’ নামে ডাকেন।
গুড় শিল্পীরা নিজেরাই বাড়িতে গুড় প্রস্তুত করেন বলে তা খাঁটি হয়। তাঁদের থেকে গুড় নিয়ে পায়েস বানালে তা কখনওই নষ্ট হয়না। এমনকি ফুটন্ত দুধে গুড় দিলেও দুধ কাটে না বলেই দাবি করেছেন শিল্পীরা।
রাজ্যের বিভিন্ন মেলায় নিজেদের তৈরি খাঁটি গুড় বিক্রি করতে আসেন এঁরা। এখান থেকেই কিছু ক্রেতা পেয়ে যান যাঁরা খাঁটি জিনিসের টানে প্রতিবছর নির্দিষ্ট প্রস্তুতকারীর থেকেই গুড় কেনেন। এমনকি অনলাইনেও তাঁরা ক্রেতাদের বাড়িতে গুড় পৌঁছে দেন। এঁদের থেকে গুড় নিতে পারলে অন্তত ভেজালের ভয়টা থাকেনা।













