নোনা জলের অনন্ত সমুদ্র লাগোয়া মিষ্টি জলের পাতকুয়ো আজও এক রহস্যেই রয়ে গেল
সমুদ্রের জল মানেই নোনতা। তার ঠিক গা ঘেঁষে তৈরি একটি পাতকুয়োর জল কিন্তু মিষ্টি। যা আজও রহস্য। তবে এ পাতকুয়োর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রামায়ণ।
ভারতে পাতকুয়োর সংখ্যা অসংখ্য। তবে তারমধ্যে এমন কয়েকটি পাতকুয়ো রয়েছে যাদের ঘিরে রয়েছে নানা জনশ্রুতি। অনেক চমৎকারের কাহিনিও জড়িয়ে থাকে সেসব পাতকুয়োর সঙ্গে। এমনই একটি পাতকুয়ো রয়েছে তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে। যে পাতকুয়োর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভগবান শ্রীরাম ও মা সীতার নাম।
তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে বিল্লুন্ডি নামে এক তীর্থস্থান অবস্থিত। যেখানে রাম ও সীতার আগমন ঘটেছিল। শ্রীরামচন্দ্র যখন সীতাকে রাবণের কবল থেকে মুক্ত করে নিয়ে ফিরে আসছিলেন তখন ওই স্থানে সীতা তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন।
সীতার তৃষ্ণা মেটাতে শ্রীরামচন্দ্র তখন বাণ নিক্ষেপ করে সেখানে একটি পাতকুয়ো তৈরি করেন। সেই পাতকুয়োর জল ছিল মিষ্টি। সেই জল পান করে সীতার পিপাসা মেটে।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ওই মিষ্টি জলের পাতকুয়োটির গা ঘেঁষে রয়েছে অসীম সমুদ্র। আর সমুদ্রের জল মানেই নোনতা। সেই অনন্ত নোনতা জলের গা ঘেঁষে তৈরি একটি পাতকুয়োর জল কীভাবে এমন মিষ্টি জলের হল তা আজও আশ্চর্যের।
কেউ জানেন না সমুদ্রের ঠিক পাশেই অবস্থিত হয়েও ওই পাতকুয়ো থেকে কি করে মিষ্টি জল পাওয়া যায়! ভক্তরা বিশ্বাস করেন ভগবান শ্রীরামের আশির্বাদেই এমন অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। তাঁরা আরও মনে করেন এই পাতকুয়োর জল পান করলে সব রোগ সেরে যায়। তাই তাঁরা এই জল বাড়িতে নিয়ে যান।
এই জায়গার নাম ‘বিল্লুন্ডি তীর্থম’ হওয়ার একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। বাণের আঘাতে তৈরি গর্তকে তামিল ভাষায় বলা হয় বিল্লুন্ডি এবং তীর্থমের অর্থ পবিত্র স্থান। বলা হয় এই পাতকুয়োটি রামেশ্বরমের ৬৪টি পবিত্র কূপের একটি।
পাতকুয়োটির ঠিক সামনেই একটি প্রাচীন শিবমন্দির রয়েছে। পাতকুয়ো দর্শন করার আগে ভক্তরা সেই মন্দিরে গিয়ে শিবলিঙ্গ দর্শন করেন। মনে করা হয় ভগবান শ্রীরামচন্দ্র এবং সীতাদেবী মিলেই এই মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন। তাই ভক্তরাও এখানে জোড় বেঁধে এসেই পুজো দেন। এই তীর্থস্থানের আশপাশে রামেশ্বরমের আরও কিছু বিখ্যাত মন্দিরের দেখা পাওয়া যায়। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

