মুম্বই : জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল। গত ৩ দিন ধরে তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো বা এনসিবি-র আধিকারিকরা। তার আগেই সুশান্ত সিং রাজপুতের বান্ধবী অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর ভাই সৌভিক চক্রবর্তীকে মাদক সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার করেছে এনসিবি। গ্রেফতার হয়েছেন সুশান্তের বাড়ির কেয়ারটেকার স্যামুয়েল মিরান্ডাও। তারপরই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল এবার হয়তো রিয়ার পালা। রিয়া চক্রবর্তীকে অবশ্য ডেকে পাঠালেও প্রথম ২ দিনে গ্রেফতার করেনি এনসিবি। অবশেষে তৃতীয় দিনে তিনি মঙ্গলবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনসিবি আধিকারিকদের মুখোমুখি হন। কিছুক্ষণ জেরার পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা যাচ্ছে এনসিবি-র জেরার মুখে রিয়া স্বীকার করেছেন যে তিনি সুশান্ত সিং রাজপুতের জন্য মাদকের বন্দোবস্ত করতেন। তা সময়ে সময়ে তাঁকে দিতেনও। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে তদন্তকারীরা জানতে পারেন যে রিয়া চক্রবর্তী তাঁর ভাই সৌভিককে দিয়ে মাদক আনাতেন। জানা যাচ্ছে রিয়াকে তদন্তকারীরা তাঁর গ্রেফতার হওয়া ভাইয়ের সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতেই তিনি ভেঙে পড়েন। স্বীকার করেন মাদক দেওয়ার কথা।
রিয়া চক্রবর্তীকে গ্রেফতারের পরই কিন্তু ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁর আইনজীবী সতীশ মনশিণ্ডে। তিনি দাবি করেছেন এক একলা মহিলাকে ‘জ্বালাতন’ করছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। কারণ ওই মহিলার দোষ তিনি এক মাদক সেবনকারীকে ভালবাসতেন। অন্যদিকে সুশান্তের মৃত্যুর পর সুশান্তের পরিবার অভিযোগ করে সুশান্ত আত্মহত্যা করেননি। তাঁকে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে। যার মূল অভিযুক্ত রিয়া চক্রবর্তী। এদিন রিয়া গ্রেফতারের পর সুশান্তের দিদি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর তাঁর মৃত্যু ঘিরে যে রহস্য দানা বেঁধেছে সেই সংক্রান্ত মামলা ইতিমধ্যেই গেছে সিবিআই-য়ের হাতে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই মামলার তদন্ত মুম্বই পুলিশের হাত থেকে গেছে সিবিআইয়ের হাতে। এছাড়াও এই তদন্তে আর্থিক দুর্নীতির মামলা হয়েছে। ইডি এই তদন্ত করছে। তাতেও রিয়া চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। তাছাড়া এই তদন্তে মাদক যোগের সবদিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত করছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা