জেগে উঠলেন ব্রেন ডেড হওয়া মহিলা, অ্যাম্বুলেন্স গর্তে পড়তেই ঘটল মিরাকল
এ যেন কোনও গল্পের বইয়ের ক্লাইম্যাক্স। অসম্ভবকে সম্ভব করা যে কেবল লেখকের কল্পনাই নয়, রাস্তার গর্তও করে দেখাতে পারে তা এবার সকলেই দেখতে পেলেন।
বাড়িতে সাংসারিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন এক মহিলা। কাজ করতে করতেই আচমকা তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। পরিবারের লোকজন তাঁকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটেন। হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা করার পর তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেন।
কিন্তু ১ দিন পর মহিলার স্বামীকে ডেকে জানিয়ে দেন মহিলা নিঃশ্বাস নিচ্ছেন না। তাঁর ব্রেন ডেড হয়ে গেছে। কেবল তাঁর হৃদপিণ্ডটি অতি ক্ষীণভাবে চলছে। এই ব্রেন ডেড পরিস্থিতি থেকে মহিলার ফেরার আর কোনও আশা নেই।
ওই ব্যক্তি কথাটা শোনার পর ভেঙে পড়েন। স্ত্রী যে আর কার্যত ইহজগতে নেই তা বুঝতে তাঁর অসুবিধা হয়নি। তিনি পরিবারের বাকিদের খবর দেন। তাঁরা বাড়িতে শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করতে থাকেন।
স্বামী কুলদীপ শুক্লা তাঁর স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়িতে একবার এনে তাঁর শেষকৃত্য করা হবে সেটাই স্থির হয়েছিল। ৭৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে অ্যাম্বুলেন্স বিনীতা শুক্লা নামে ওই ব্রেন ডেড মহিলাকে নিয়ে ফিরছিল।
উত্তরপ্রদেশের হাফিজগঞ্জের কাছে অ্যাম্বুলেন্সটি রাস্তায় থাকা একটি গর্তে পড়ে যায়। ফলে অ্যাম্বুলেন্সটি ভয়ংকরভাবে কেঁপে ওঠে। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা কুলদীপ শুক্লা সহ বাকিরা এদিক ওদিক উল্টে যান।
নিজেদের সামলে নিয়ে তাঁরা বিনীতা শুক্লাকে দেখে হতবাক হয়ে যান। যিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন না, তিনি সাধারণভাবে শ্বাস নিতে শুরু করেছেন। তাঁর হৃৎস্পন্দনের গতিও স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
এমন এক চমৎকার দেখার পর কুলদীপ দ্রুত বাড়িতে ফোন করে শেষকৃত্যের তোড়জোড় বন্ধ করিয়ে দেন। বিনীতাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের মুখ ঘুরিয়ে হাজির হন পিলিভিটের একটি হাসপাতালে।
সেখানে মাত্র ১ দিনের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন মহিলা। সুস্থ হয়ে ফিরে যান বাড়িতে। উত্তরপ্রদেশের এই আশ্চর্য জীবনদান দেশের তো বটেই বিদেশের সংবাদমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। সকলেই মেনে নিচ্ছেন ওই গর্তটাই চমৎকারটা করে দেখাল।













