National

গন্ধ ঘাসের আকাল, জল ভরা মাঠের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে সুগন্ধি, অশনিসংকেত দেখছেন কৃষকরা

এ এক বিশেষ ঘাস। ভুরভুরে তার সুগন্ধ। সেই ঘাস হারিয়ে যাচ্ছে যত্নের অভাবে। প্রকৃতি বিরূপ, সঙ্গে নেই প্রয়োজনীয় সাহায্য। কৃষকরা ছেড়ে দিচ্ছেন এই ঘাসের চাষ।

ধূপে সুগন্ধ ছড়াতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ ধরনের তেল। সুগন্ধি তেল। যা ধূপের গন্ধকে মোহময় করে তোলে। আবার এই সুগন্ধি তেল ব্যবহার হয় প্রসাধনী তৈরি করতেও। প্রসাধনীতে সুন্দর একটা গন্ধ থাকে। যা আসে এই বিশেষ ঘাস তেলের ছোঁয়ায়।

এই তেল তৈরি হয় মাঠে জন্ম নেওয়া এক বিশেষ প্রজাতির ঘাস থেকে। এই ঘাস বিশেষ আবহাওয়াতেই জন্মায়। শর্ত হল যে ক্ষেতে জন্মাবে সেখানে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হতে হবে।

বৃষ্টির জলে ভরা মাঠে এই ঘাস তরতর করে বাড়ে। তা প্রচুর পরিমাণে হয়। যা এই ঘাস চাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের মুখে হাসি ফোটায়। এই বিশেষ ধরনের সুগন্ধি ঘাসের নাম পালমারোসা।

এই ঘাস জন্মায় প্রধানত তামিলনাড়ুতে। তামিলনাড়ুর ধর্মপুরী এলাকায় এই বিশেষ ধরনের ঘাস চাষের সঙ্গে বহু মানুষ জড়িত। তবে তাঁরা কতদিন এই সুগন্ধি ঘাস চাষের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন তা এখন বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে।

এই ঘাসের জন্য ভাল বর্ষার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এবার তামিলনাড়ুর অনেক জায়গায় ভাল বর্ষা হয়নি। ফলে এই ঘাসের ফলন ভাল হয়নি। সেই সঙ্গে এই ঘাস থেকে যে তেল তৈরি হয়, যাকে পালমারোসা এসেন্সিয়াল অয়েল বলা হয়, তা তৈরি করতে যে জায়গাগুলি রয়েছে সেখানে ঘাস থেকে তেল তৈরির জন্য বহু পুরনো পদ্ধতি ব্যবহার হয়। ফলে তেল তৈরির খরচ অনেকটা বেড়েছে।

এই ঘাস এবার একেই কম হয়েছে। তার সঙ্গে এর দামও কৃষকরা যা পাচ্ছেন তাতে সে অর্থে মুনাফার মুখই দেখতে পাওয়া যাচ্ছেনা। ফলে অনেক কৃষকই এই ঘাস চাষ থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন।

৫ বছর আগেও যেখানে ধর্মপুরী এবং তার আশপাশের এলাকা জুড়ে ১ হাজার ৪৫০ একর জমিতে এই ঘাস চাষ হত, সেখানে মাত্র ৫ বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪১০ একরে। সেটাও কতদিন আর থাকবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

এই ঘাস থেকে তেল তৈরির সঙ্গে যাঁরা যুক্ত তাঁরাও লাভের মুখ সেভাবে দেখতে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। কারণ তেল তৈরি করতে এখন যা খরচ হচ্ছে, কাঁচামালের অভাব যেভাবে প্রতিদিন বাড়ছে, তাতে তাঁরাও এই ব্যবসা থেকে বিমুখ হওয়ার পথে।

ফলে বহুকাল ধরে চলে আসা পালমারোসা নামে এই সুগন্ধি ঘাস চাষ কার্যত সংকটের মুখে। এই পরিস্থিতি থেকে তাঁদের বার করে এই ঘাস চাষকে ফের তার পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে সরকারের দিকেই চেয়ে আছেন এই ঘাস চাষ এবং ঘাস থেকে তেল তৈরির সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।

প্রসঙ্গত এই সুগন্ধি তেল ১ কেজি তৈরি করতে দেড় টন ঘাসের প্রয়োজন পড়ে। ফলন এভাবে কমতে থাকলে পর্যাপ্ত কাঁচামালই থাকবেনা তেল তৈরির জন্য। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *