এই গ্রামে কোটিপতিরাও মাটির ঘরে বাস করেন, নিরামিষ খান, সবাই জমিহীন
এ এমন এক গ্রাম যেখানে কোটিপতি হলেও তিনি মাটির কুঁড়েঘরেই বাস করেন। গ্রামে কোনও পাকা বাড়ি নেই। সকলেই নিরামিষভোজী। কেরোসিন তেল কখনও ব্যবহার হয়না।
ভারতেই এমন কয়েকটি গ্রাম রয়েছে যেখানকার নিয়মকানুন অবাক করে দিতে পারে। যেমন একটি গ্রাম রয়েছে যেখানে একটাও বাড়ি পাকা বাড়ি নয়। এমন নয় যে গ্রামবাসীদের কারও আর্থিক সঙ্গতি নেই যে পাকা বাড়ি তৈরি করবেন। বরং এটা বংশপরম্পরায় মেনে চলা এক আদর্শ, একটি চলমান প্রথা। যা এই গ্রামের প্রতিটি মানুষ আজও মেনে চলেন।
গ্রামের কোটিপতি মানুষজনও যে বাড়িতে থাকেন তা মাটির তৈরি। টালির চাল। অথচ ঘরের মধ্যে যাবতীয় বিলাসবহুল বৈদ্যুতিন যন্ত্র রয়েছে। কিন্তু বাড়ি তাঁরা কখনও পাকা করেননা।
এ গ্রামে কেউ মাছ, মাংস, ডিন খান না। মদ্যপান করেননা। গ্রামের সকলে নিরামিষভোজী। এই গ্রামে বিদ্যুৎ কোনও কারণে চলে গেলে আলো জ্বালাতে কেরোসিন ব্যবহার করা হয়না। তিলের তেল থেকে লম্ফ জ্বালানো হয়। গ্রামটি অতি পরিচ্ছন্ন।
কথিত আছে এ গ্রামে ভগবান দেবনারায়ণ স্বয়ং এসেছিলেন। তিনি এসে গ্রামবাসীদের নির্দেশ দিয়ে যান কেউ যেন পাকা বাড়ি নির্মাণ না করেন। তাতে তাঁদের শান্তি বিনষ্ট হবে। ভগবানের দেওয়া নির্দেশ আজও মেনে চলেন গ্রামবাসীরা।
গ্রামটি রয়েছে রাজস্থানের বেওয়ার জেলায়। গ্রামের নাম দেবমালী। এই গ্রাম ভারতের সেরা গ্রামের মর্যাদাও লাভ করেছে। গ্রামের ধারেই পাহাড়ের ওপর রয়েছে ভগবান দেবনারায়ণের মন্দির। গ্রামবাসীরা সেখানে পুজো দিতে যান।
৩ হাজার বিঘা জমির ওপর এই দেবমালী গ্রামটি অবস্থিত। গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করেন এই পুরো গ্রামের জমি ভগবান দেবনারায়ণের। তাই এই গ্রামের কারও কাছে জমির মালিকানা হিসাবে কোনও দলিল নেই। কারণ কারও কোনও ব্যক্তিগত জমি নেই।













