আনারসের ফেলে দেওয়া খোসা থেকে রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় উপাদান বানিয়ে তাক লাগাল ভারত
আনারসের অন্যতম প্রধান উৎপাদক ভারত। সেই আনারসের প্রচুর খোসা বর্জ্য হিসাবে পড়ে থাকে। সেটাই এবার কাজে লাগিয়ে রান্নাঘরের অবশ্য প্রয়োজনীয় উপাদান বানিয়ে ফেললেন গবেষকেরা।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এক নতুন দিশা দেখালেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। আনারসের ফেলে দেওয়া খোসা থেকে তাঁরা প্রতিটি রান্নাঘরে থাকা একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান বানিয়ে ফেললেন। এতে প্রচুর আনারসের খোসার জঞ্জালের স্তূপ থেকে পরিবেশ নষ্টের চিন্তাও থাকল না।
আবার সেটা প্রয়োজনীয় উপাদানে রূপান্তরিতও হল। সেই সঙ্গে এরফলে রোজগারের রাস্তা খুলল। কারণ এই আনারসের খোসাকে রূপান্তরিত করে বিক্রির ব্যবসায় অনেক মানুষ যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।
ভারতের পূর্ব প্রান্তে আনারস সবচেয়ে ভাল হয়। উত্তরবঙ্গেও ভাল আনারস হয়। তবে ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আনারস উৎপাদনে নাগাল্যান্ডের নাম সামনে আসে। নাগাল্যান্ডে আনারস চাষ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক।
নাগাল্যান্ডে কিউ প্রজাতির আনারস বেশি হয়। তুলনায় রানি প্রজাতির আনারস কম। নাগাল্যান্ডের মাটি ও আবহাওয়া আনারস চাষের উপযুক্ত হওয়ায় সেখানে যেমন প্রচুর পরিমাণে আনারস উৎপাদন হয়, তেমনই সেগুলি খেতে মিষ্টি, রসাল ও সুস্বাদু হয়।
এই আনারসের আবার মাথার কাছে যে ঝুঁটির মত পাতা থাকে তা কাজে লাগেনা। কাজে লাগেনা আনারসের খোসা। এদিকে ফেলে দেওয়া আনারসের খোসা পচে দূষণ ছড়ায়।
নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দল এই আনারসের খোসা নিয়েই গবেষণা করছিল। তারা আনারসের খোসা থেকে উন্নতমানের ভিনিগার প্রস্তুত করেছে। এই ভিনিগারের গুণগত মান অত্যন্ত ভাল।
এদিকে আপেলের ভিনিগার অত্যন্ত দামি। তুলনায় আনারসের খোসা থেকে তৈরি ভিনিগারের দাম অনেক কম হবে। আবার এখন মানুষের চাহিদা মত ফ্রুট ভিনিগার বা ফলের ভিনিগারও তৈরি করা সম্ভব হবে।
এই নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার পর গবেষকেরা অবশেষে জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা আনারসের খোসা থেকে ভিনিগার বানাতে সক্ষম হয়েছেন। যার গুণগত মান ভাল, বিক্রির সম্ভাবনা অনেক, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবসাতেও তা অত্যন্ত কার্যকরি হবে।
এই ভিনিগার তৈরি করে বিক্রির ব্যবসা শুরু করতে অনেক উদ্যোগী তরুণ তরুণী এগিয়ে আসতে পারবেন। বৃদ্ধি পাবে কর্মসংস্থান। তবে শুধু আনারসের খোসা থেকে ভিনিগার বানিয়েই থেমে যাননি গবেষকেরা। আনারসের বাকি ফেলে দেওয়া অংশকে কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে তা নিয়েও তাঁরা জোরকদমে কাজ করছেন। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা













