সন্ধে নামতেই লাল হয়ে গেল রাষ্ট্রপতি ভবন, নিছক সাজানোর জন্য নয়

রাষ্ট্রপতি ভবন সহ সরকারি অনেক ভবন রবিবার সন্ধেয় লাল হয়ে যায়। মনে হতেই পারে যে সাজানোর জন্য লাল রংয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়। কারণটা কিন্তু একেবারেই তা নয়।

রঙিন রাষ্ট্রপতি ভবন, ছবি – সৌজন্যে – এক্স – @abhish18

কোনও আলোকসজ্জা নয়। দীপাবলির আগে সেজে ওঠা নয়। কিন্তু রবিবার সন্ধেয় দেশের রাষ্ট্রপতি ভবন লাল হয়ে যায়। লাল হয়ে যায় রাষ্ট্রপতি ভবনের ২ পাশে থাকা নর্থ ও সাউথ ব্লক। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন লাল রংয়ে মুড়ে যায়। এটা যদি নিছক আলোকসজ্জা না হয় তাহলে কেন লাল করা হল এসব ভবনকে?

লাল রং দিয়ে মুড়ে ফেলার কারণ একটি স্লোগান। গো রেড স্লোগানের হাত ধরেই লাল হওয়া। এই গো রেড স্লোগান একটি রোগ সম্বন্ধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা প্রসারের হাতিয়ার।

ডিসলেক্সিয়া নামে একটি রোগ সম্বন্ধে সচেতনতা প্রসারের পথে হাঁটছে খোদ ইউনেস্কো। ভারতেও এই রোগ সম্বন্ধে মানুষকে সচেতন করে তোলা, এই রোগ সম্বন্ধে মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারনা দূর করাই এই গো রেড-এর মূল উদ্দেশ্য।

ডিসলেক্সিয়া হল মূলত পড়ার অসুবিধার অসুখ। এই রোগ থাকলে কোনও কিছু পড়তে অসুবিধা হয়। অক্ষর বুঝে উঠতে পারা যায়না। একে বলা হয় লার্নিং ডিসঅর্ডার।

ভারতের আম জনতা এই রোগ সম্বন্ধে একটি সিনেমা থেকে একটা ধারনা পেয়েছিলেন। আমির খানের ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘তারে জমিন পর’ এক শিশুর মধ্যে এই ডিসলেক্সিয়া সমস্যা নিয়েই তৈরি হয়েছিল। যে সিনেমা দেখার পর এই সমস্যা সম্বন্ধে সাধারণ মানুষ জানতে পারেন। জানতে পারেন এই শিশুরাও স্বাভাবিক জীবনে কতটা সাফল্য পেতে পারে।

এই রোগ সম্বন্ধে ভ্রান্ত ধারনাগুলিও ওই সিনেমার মধ্যে দিয়ে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়। সেই ডিসলেক্সিয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতেই এই গো রেড অভিযান। যাকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে অন্য নানা সরকারি ভবনকে লাল করে ভারতও এই লড়াইয়ে শামিল হল। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা