ছবির মত সুন্দর জায়গায় বেড়াতে এসে অজানা কারণে উধাও হাজার পর্যটক

এ উপত্যকা যতটাই সুন্দর, ততটাই আতঙ্কের কালো ছায়ায় ভরা। রহস্য এখানে আনাচেকানাচে ঘোরে। কারও জানা নেই কেন প্রায়দিন হারিয়ে যাচ্ছেন পর্যটকেরা।

পার্বতী উপত্যকা, ছবি - সৌজন্যে - উইকিমিডিয়া কমনস

হিমালয় মানেই তো অপার সৌন্দর্যের হাতছানি। যা বলে বোঝানো যায়না। চোখে দেখে অনুভব করতে হয়। সেই হিমালয়ের কোলেই হিমাচল প্রদেশের কুলু জেলার পার্বতী উপত্যকা যেন এক টুকরো স্বর্গ। যে সুন্দর দেখেও আশ মেটেনা।

সেই পার্বতী নদীর এই উপত্যকায় যে পর্যটকদের ভিড় জমবে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু সেই পর্যটনেই কালো ছায়া পড়েছে এখানে। রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন অনেক পর্যটক। এমনকি তাঁদের অনেকের দেহ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কারও আবার অনেকদিন পর গলা পচা দেহ উদ্ধার হচ্ছে।

পার্বতী উপত্যকা, ছবি – সৌজন্যে – উইকিমিডিয়া কমনস

খতিয়ান বলছে ২০০৩ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই পার্বতী উপত্যকায় বেড়াতে এসে নিখোঁজ হয়ে গেছেন ১ হাজার ৭৮ জন পর্যটক। যার মধ্যে বিদেশি পর্যটক রয়েছেন ২১ জন। বাকিরা ভারতীয়। এঁদের অনেকেরই খোঁজ আজও মেলেনি। কীভাবে যেন তাঁরা ভ্যানিস হয়ে যান!

পুলিশ মনে করছে এর একটা কারণ হতে পারে এ অঞ্চল জুড়ে নানা ধরনের নিষিদ্ধ মাদকের রমরমা। যা সেবন করার পর অনেক সময় এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কোথাও পড়ে মৃত্যু হচ্ছে নেশাগ্রস্তদের।

কিন্তু এভাবে একটিমাত্র কারণকে কাঠগড়ায় চাপিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না অনেকেই। পুলিশ অবশ্য এটাও বলছে যে পার্বতী উপত্যকার অনেক জায়গাই অতি দুর্গম। কোথায় গেলে কি বিপদ ওত পেতে আছে তা বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়।

কিন্তু অনেকে এখানে বেড়াতে এসেও স্থানীয় গাইড নেন না। ফলে বিপদ বাড়ছে। এসব নানা কারণকে সামনে আনা হলেও এখনও কিন্তু নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারছেন না গত ২০ বছরে ১ হাজার ৭৮ জন মানুষ হারিয়ে যাওয়ার সঠিক কারণটা ঠিক কী!

পার্বতী উপত্যকা, ছবি – সৌজন্যে – উইকিমিডিয়া কমনস

ফলে রহস্য আজও রয়েই গেছে। বরং তা যতই দিন যাচ্ছে ততই পর্যটকদের কপালের ভাঁজ পুরু করছে। অবশ্য এই হারিয়ে যাওয়ার কারণ খোঁজার চেষ্টা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা