National

মাঝ গঙ্গায় গিয়ে দেহ ভাসাল পরিবার

মাঝ গঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হল দেহ। তারপর তা গঙ্গার জলে কলাগাছে বেঁধে ভাসিয়ে দিল পরিবার। গোটা ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়।

গত মাসেই গঙ্গায় একে পর এক দেহ ভাসতে দেখে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। করোনায় মৃতদের পরিবার পরিজনের দেহ ভাসিয়ে দিচ্ছিল গঙ্গায়। সেই দেহ ভাসতে ভাসতে এসে ঠেকছিল উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের বিভিন্ন ঘাটে। যার জেরে গঙ্গার মাছ বিক্রি পর্যন্ত বন্ধ হেয় গিয়েছিল।

মানুষ গঙ্গার জল ব্যবহার করতে ভয় পাচ্ছিলেন। ২ রাজ্যের সরকার বিষয়টি নিয়ে নড়ে চড়ে বসার পর গঙ্গায় লাগাতার দেহ ভাসানোতে লাগাম পড়ে।

কিন্তু ফের একটি ভিডিও হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি পরিজনের দেহ নিয়ে মাঝ গঙ্গায় গিয়ে তা জলে ভাসিয়ে দিয়েছে পরিবার। অবশ্য এক্ষেত্রে দেহ করোনায় মৃতের নয়।

বিহারের বাঁকা জেলার নওয়াদা বাজার গ্রামের বাসিন্দা মিথিলেশ কুমারের মৃত্যু হয় সাপে কাটার ফলে। বিহারে একটি প্রচলিত প্রথা আছে। সেখানে সাপের দংশনে কারও মৃত্যু হলে সেই দেহ স্থানীয়রা কলাপাতায় মুড়ে গঙ্গার জলে ভাসিয়ে দেন।

কিন্তু করোনায় মৃতদের দেহ গঙ্গায় ভাসানোকে কেন্দ্র কের তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন প্রশাসন সজাগ। ফলে গঙ্গায় এভাবে দেহ ভাসানো মুশকিল।

তাই ভেবে পরিবার ভাগলপুরের বারারি ঘাটে ডোমদের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে। তিনি প্রথমে ১ লক্ষ টাকা চান। অবশেষে ১১ হাজার টাকায় রফা হয়।

কিন্তু মৃতের পরিবারের হাতে সেই টাকাও ছিলনা। ফলে তাঁরা ভাগলপুর শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে কাহালগাঁওতে গিয়ে সেখানকার ডোম প্রধানের সঙ্গে কথা বলে দেড় হাজার টাকায় রফা করে। সঙ্গে একটি নৌকার জন্য আরও ১ হাজার টাকা।

দেহ এরপর নৌকায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় মাঝ গঙ্গায়। সেখানে একটি কলা গাছে বেঁধে দেহ গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা পুরো ঘটনার ভিডিও করে তা সোশ্যাল মাধ্যমে প্রকাশ করে দেন। প্রশাসনের তরফে গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show More
Back to top button