পৃথিবী থেকে এত দূরে এর আগে কোনও মানুষ পৌঁছতে পারেনি, তৈরি হল নতুন ইতিহাস
পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে পৌঁছে গেল মানুষ। যা মানবসভ্যতায় এক নতুন ইতিহাস লিখে ফেলল। দেখল চাঁদের অদেখা দিককেও।
চাঁদকে লক্ষ্য করে ৪ জন মহাকাশচারীকে নিয়ে ছুটে চলা আর্টেমিস ২ মিশন এক উল্লেখযোগ্য ইতিহাস গড়ে ফেলল। পৃথিবী থেকে যাত্রা শুরু করে এখন ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের কাছে পৌঁছে গেছে। চাঁদকে খুব কাছ থেকে প্রদক্ষিণ করার কাজ চলছে।
এই সময় চাঁদের পিছনের দিকে, অর্থাৎ চাঁদের যে অংশ দেখা যায়না সেই অংশে পৌঁছে যায় মহাকাশযানটি। চাঁদের এই অংশকে এই প্রথম কোনও মানুষ তাঁর চর্মচক্ষে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেলেন।
এই সময় চাঁদের মাটি থেকে মাত্র ৪ হাজার ৬৭ মাইল দূরে ছিল যানটি। যেখান থেকে ৪ নভশ্চর স্পষ্ট দেখতে পান চাঁদের গা। যেখানে কোথাও গ্রহাণুর আছড়ে পড়ার চিহ্ন স্পষ্ট তো কোথাও পুরনো লাভা স্রোতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। আবার কোথাও রয়েছে বড় বড় ফাটল।
চাঁদের পিঠের দিক বললে এই অংশকে ভুল হবেনা। যা এই প্রথম কোনও মানুষ চোখে দেখার সুযোগ পেলেন। এই অংশ পার করতে যে সময়টা লাগে সে সময় ওরিয়নের সঙ্গে পৃথিবীর সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। অবশ্য আচমকা নয়, এটা জানাই ছিল। চাঁদের পিঠের দিক থেকে বেরিয়ে আসার পরই ফের ফিরে আসে সংযোগ।
চাঁদকে প্রদক্ষিণ করতে গিয়ে পৃথিবীর উদয় এবং পৃথিবীর অস্ত যাওয়া দেখারও সুযোগ হয়েছে ৪ মহাকাশচারীর। এদিকে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করতে গিয়ে একসময় পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে চলে যাওয়ার কৃতিত্বও অর্জন করলেন এই ৪ জন।
কারণ তাঁরাই হলেন প্রথম মানুষ যাঁরা পৃথিবী থেকে এতটা দূরে যেতে পারলেন। পৃথিবী থেকে একসময় ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার দূরে পৌঁছে যান তাঁরা। যা মানব ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখে ফেলল।
চাঁদে নামা নয়, চাঁদকে খুব কাছ থেকে প্রদক্ষিণ করে ছবি তোলা থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন মহাকাশচারীরা। যা আগামী দিনে চাঁদে মানুষের যাতায়াতকে সুগম করে তুলবে। বিজ্ঞানীদের চাঁদকে আরও ভাল করে বুঝতে সাহায্য করবে।













