বিয়ে করতে পাহাড়ি পথে ৪ ফুট বরফের ওপর ১৪ কিলোমিটার হাঁটলেন বর, কনে হাঁটলেন ৭ কিলোমিটার
চারধারে তুষারপাত হয়েই চলেছে। ফলে পাহাড়ে বরফের চাদর ক্রমশ পুরু হয়েছে। সেই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই বরফ ভেঙে বিয়ে করতে গেলেন বর। হাঁটলেন ১৪ কিলোমিটার।
তুষারপাত হয়েই চলেছে। ফলে গোটা এলাকাই বরফের চাদরে ঢাকা। পাহাড়ি পথ আরও বিপদসংকুল হয়ে উঠেছে। পাহাড়ের গা বেয়ে চড়াই ভাঙা। সেই অপরিসর পথের একধারে খাদ। যে পথ দিয়ে হেঁটে যেতে হবে সে পথে বরফের পুরু চাদর।
সেখান দিয়েই সন্তর্পণে হেঁটে চলা। কিন্তু বিয়ে তো আগেই স্থির হয়ে গেছে। সে বিয়ে তো আর বরফের জন্য পিছিয়ে দেওয়া যাবেনা। সেটা নিজেও চাননি বর। বিয়ে করতে তাই পরিবারের গুটিকয়েক সদস্যকে নিয়ে বরের সাজে সেজে হেঁটেই পাড়ি দেন কনের বাড়ির দিকে।
বরফ তখন ৪ ফুটের ওপর পুরু। একপাশে খাদ, পথ বরফের চাদরে ঢাকা। তার ওপর দিয়েই হাঁটতে থাকেন বর। এভাবে ৭ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি চড়াই পথে হেঁটে বর পৌঁছন কনের বাড়িতে।
সেখানেও তুষারপাতে চারধার ঢাকা। তারমধ্যেই সব নিয়ম মেনে বিয়েটা হয়। বিয়ের পরদিন সকালেই বর কনেকে নিয়ে পাড়ি দেন বাড়ির পথে। আবার সেই হাঁটাই একমাত্র উপায়।
ফলে কনেকে সঙ্গে নিয়ে ফের বরফ ভাঙা শুরু। ফের পাহাড়ি পথে চড়াই উৎরাই ভেঙে বরফে পা ডুবিয়ে রীতিমত পরিশ্রম করে বর কনে প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে হেঁটে পার করেন ৭ কিলোমিটার পথ। কনে পা রাখেন তাঁর শ্বশুরবাড়িতে।
সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এই দুর্গম পাহাড়ি পথে বরফ ভেঙে বর কনের পথ চলার ছবি। হিমাচল প্রদেশের মান্ডির এই ঘটনা রীতিমত সাড়া ফেলেছে। এত প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাও বুনালিধার গ্রামের যুবক গীতেশ ঠাকুরের বিয়ে করতে যাওয়া টলাতে পারেনি।
বিয়ে করতে বৌচড়ি গ্রামে হাজির হন তিনি। ঊষা ঠাকুরের সঙ্গে গীতেশের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ে করতে গীতেশ ১৪ কিলোমিটার ওই দুর্গম পথে হাঁটলেন। ঊষা ঠাকুরকে হাঁটতে হয় ৭ কিলোমিটার পথ। খবরটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নেয়।













