Health

৫০ বছরের পর অন্ধত্বের সম্ভাবনা বাড়ছে কেন জানাল গবেষণা

৫০ বছরের পর বহু মানুষের মধ্যেই চোখের নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেকে অন্ধত্বেরও শিকার হচ্ছেন। কিন্তু কেন? তার একটি কারণ তুলে ধরল একটি গবেষণা।

লন্ডন : প্রতিদিন কালো ধোঁয়া উড়িয়ে শহরের বুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অন্তহীন যানবাহনের মিছিল, কলকারখানার মাথায় মুখ হাঁ করা চিমনি থেকে গলগল করে বেরিয়ে আসা ধোঁয়ার কুণ্ডলী মিশে যাচ্ছে খোলা আকাশে। তাতে আপাতভাবে আমাদের কোনও ক্ষতি হচ্ছে না। নাকে রুমাল ঢেকে কি মাস্কের আড়ালে মুখ বাঁচিয়ে আমরা হেঁটে চলে বেড়াচ্ছি নির্দ্বিধায়।

কিন্তু এই সমস্ত কারণে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণের মাত্রা যত বাড়ছে ততই বাড়ছে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ।

ফুসফুস বা হৃদরোগ ও অন্যান্য আরও নানান অসুস্থতা তো রয়েছে, তার সাথে যুক্ত হল অন্ধত্বের ভয়। সম্প্রতি ব্রিটেনের চক্ষুবিদ্যা সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়েছে বায়ুদূষণ মানুষের স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলার ঝুঁকি বাড়ায়। হতে পারে এজ-রিলেটেড ম্যাকিউলার ডিজেনারেশন বা এএমডি-র মত অসুখ।

যেসব এলাকার বায়ু দূষিত সেইসব স্থানের বাতাসে মিশে থাকা ক্ষুদ্র ধূলিকণা ও রাস্তাঘাটে যানবাহনের কারণে উৎপন্ন কণিকাগুলি থেকে চোখের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন এই গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজের অধ্যাপক পল ফস্টার।


তিনি এর সাথে যোগ করেন, তুলনামূলকভাবে বদ্ধ বাতাসেও এএমডি-র ঝুঁকি বাড়তে পারে। বহু মানুষের চোখের সমস্যা তৈরির ক্ষেত্রে বায়ুদূষণ বিশেষ ভূমিকা পালন করে বলেও জানিয়েছেন অধ্যাপক ফস্টার।

ধনী দেশগুলিতে পঞ্চাশের উর্ধ্বে ব্যক্তিদের মধ্যে এএমডি হল স্থায়ী অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। এএমডি-তে আক্রান্তের সংখ্যাটা দিন দিন বাড়ছে। অনুমান করা হচ্ছে ২০৪০ সালে তা ৩০ কোটিতে পৌঁছবে।

এই রোগের ক্ষতির কিছু সাধারণ কারণ হল বেশি বয়স, ধূমপান ও জেনেটিক মেকআপ। ৪০ থেকে ৬৯ বছর বয়স্ক এবং চোখের সমস্যাবিহীন ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৯৫৪ জন মানুষকে নিয়ে গবেষণাটি শুরু হয় ২০০৬ সালে। তার মধ্যে ৫২ হাজার ৬০২ জনের এএমডি ধরা পড়ে।

গবেষকদের দলটি লক্ষ্য করে যেসব অঞ্চলে বাতাসে বায়ুদূষণজাত কণার মাত্রা বেশি সেইসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের এএমডি বেশি ধরা পড়েছে। স্থূল কণা ছাড়া সমস্ত দূষণ জাত কণিকাই রেটিনার গঠন পরিবর্তন করতে সক্ষম বলে এই গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show Full Article
Back to top button