বুদ্ধিমান পাখি, চঞ্চুতে বঁড়শি গেঁথে গেছে, চিকিৎসা করাতে একাই হাজির হল হাসপাতালে
মানুষরাও তেমন কিছু হলে একা হাসপাতালে আসেন না। কিন্তু বনের পাখিদের তো আনার কেউ নেই। তাই একাই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হাজির হল সে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর ভিড় থাকে। সেখানে এলে চিকিৎসা হবে। তাঁরা সুস্থ হবেন একথা মানুষ জানেন। কিন্তু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এলে সুস্থ হওয়া যায়, একথা একটা বনের পাখি জানল কি করে! এটা অবশ্যই অবাক করা। তবে এ পাখি বড়ই বুদ্ধিমান।
তার চঞ্চুতে কোনওভাবে মাছ ধরার বঁড়শি বেকায়দায় আটকে যায়। পাখির পক্ষে তো সেই বঁড়শি বার করা সম্ভব নয়। প্রকৃতির মাঝে কেই বা তাকে ওই বঁড়শিমুক্ত করবে!
তাই যাঁরা পারবেন তাঁদের কাছে হাজির হল পাখি। সটান হাজির হল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে আসার পর চিকিৎসকদের মনোযোগ আকর্ষিত করতে সে কাচের জানালায় টোকাও মারতে থাকে।
বিষয়টি নজরে পড়ে জার্মানির ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত এক নার্সের। তাঁকে তাঁর এক সহকর্মীও বিষয়টি জানান। পাখিটি জানালায় টোকা মারতে থাকে যতক্ষণ না তাকে দেখতে কেউ আসেন।
কিন্তু পাখিটিকে ঠিক করে ধরে থাকা দরকার। তবেই তার চিকিৎসা সম্ভব। তাই দমকলে খবর দেওয়া হয়। এক দমকলকর্মী এসে পাখিটিকে ধরে থাকেন। হাসপাতালের তরফে তখন ওই ৩টি হুকের বঁড়শির ধাতব অংশ পাখির চঞ্চু থেকে বার করে আনা হয়। ওষুধও লাগিয়ে দেওয়া হয়।
এই পুরো সময় কোনও ছটফট করেনি পাখিটি। সেও জানত তার চিকিৎসা হচ্ছে। ওষুধ লাগিয়ে সুস্থ করার পর পাখিটিকে হাসপাতাল লাগোয়া একটি উদ্যানে প্রকৃতির মাঝে ছেড়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালের সকলেই স্বীকার করেছেন পাখি নিজেই হাসপাতালে এল চিকিৎসা করাতে, এমন ঘটনা কখনও দেখেননি তাঁরা।













