মোটা টাকার চাকরি ছেড়ে জনশূন্য দ্বীপে চলে গেলেন এক মহিলা, সেখানে ইঁদুর আছে মানুষ নেই
তিনি যে চাকরিটা করতেন তাতে মোটা টাকা মাইনে পেতেন। উঁচু পোস্ট। সেসব ছেড়ে আচমকাই তিনি চলে গেলেন এমন এক দ্বীপে যেখানে মানুষ থাকেনা।
২০ বছর ধরে কর্পোরেট দুনিয়ায় তাঁর ঘোরাফেরা। উঁচু পদের সুবাদে তাঁর কর্পোরেটের উঁচু মহলে ওঠা বসাও ছিল। কিন্তু সে চাকরি তিনি আচমকাই ছেড়ে দেন। যেমন পদ উঁচু তেমন চাপও ছিল। কাজের চাপ।
তিনি একদিন একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পান। সেখানে এমন একজনকে খোঁজা হচ্ছিল যিনি মাছদের খাবারের মানের দিকে নজর রাখতে পারবেন। কাজটা একেবারেই কঠিন নয়। মাইনেও খুব কম। ভারতীয় মুদ্রায় ৪০ হাজার টাকা। তাও আবার ২ মাসে মাত্র ৪ দিন ছুটি।
মোটা টাকা মাইনের চাকরি ছেড়ে এই চাকরিটা নিতে তিনি একবারও ভেবে দেখেননি। চাকরি নিয়ে তিনি চলে যান পূর্ব চিন সাগরের ওপর অবস্থিত একটি মানববর্জিত দ্বীপে।
এটাই ছিল তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য। যে কারণে তিনি এই নতুন চাকরিতে যোগ দেন। এখানে তাঁকে মাছদের খাবারের মানের দিকে নজর রাখতে হত। মাছেরা কেমন বড় হচ্ছে সেটা দেখতে হত। কিন্তু কাজ হালকা। ফলে অগাধ সময়। তিনি এটাই চেয়েছিলেন।
শহুরে জীবন। অফিসের চাপ। এসব থেকে অনেক দূরে এক শান্ত নিরিবিলি দ্বীপে থাকতে চেয়েছিলেন ওই চিনা মহিলা। যেখানে তাঁর অফুরান অবসর সময়।
বই পড়ে। সমুদ্রের ধারে বসে সূর্য ওঠা, সূর্য ডোবা দেখে, মাছ ধরে এক নিশ্চিন্ত শান্ত জীবন কাটাতে চেয়েছিলেন তিনি। সেটা পানও। এ দ্বীপে মানুষ থাকেনা। তিনি একাই থাকেন। তাঁর প্রয়োজনীয় খাবারদাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিস কখনোসখনো একটি নৌকা এসে দিয়ে যায়।
মানুষের বসতি সেখান থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে। তাও সমুদ্রপথে অন্য এক দ্বীপে। যে দ্বীপে তিনি থাকেন সেখানে প্রবল বৃষ্টি এবং অতি প্রবল ঝোড়ো হাওয়া তাঁকে প্রায়ই সমস্যায় ফেলে দেয়। তার সঙ্গে ইঁদুরের উপদ্রব আছে।
কিন্তু তিনি খুশি। এই একাকী একটি মনুষ্যহীন দ্বীপে এভাবে নিজের মত করে জীবন কাটানো তিনি তারিয়ে উপভোগ করছেন। খবরটি সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।













