অতি বিরল দৃশ্য, আচমকাই রঙিন ফুলে ভরে গেল বিশাল মরুভূমি

মরুভূমি মানেই মাইলের পর মাইল জুড়ে শুধু শুষ্ক পরিবেশ। মরূদ্যানে কিছু সবুজের দেখা পাওয়া যায় ঠিকই, তবে গোটা মরুভূমি ফুলে ঢেকে যাওয়ার ঘটনা সত্যিই বিরল।

ফুলে ঢেকে যাওয়া আতাকামা মরুভূমি, ছবি – সৌজন্যে – এক্স – @Reuters

মরুভূমির শুষ্কতার মধ্যেও এক অন্য ধরনের আকর্ষণ রয়েছে। রুক্ষ প্রান্তরকে কাছ থেকে দেখার ইচ্ছাতেই মানুষ ওই রুক্ষ ভূমিতে ছুটে যান। এমনই এক মরুভূমিতে শুষ্কতার বদলে লেগেছে প্রাণের ছোঁয়া।

যে প্রান্তর এতদিন ছিল রুক্ষ ও প্রাণহীন সেটাই এখন রং বেরংয়ের ফুলে ভরে গিয়েছে। সাদা এবং বেগুনি ফুলের মেলা বসেছে সেখানে। মরুভূমির উপর কেউ যেন রঙিন চাদর বিছিয়ে দিয়েছে।

এমন অসামান্য দৃশ্য দেখা গেছে চিলির আতাকামা মরুভূমিতে। এই আতাকামা বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক স্থান গুলির মধ্যে একটি। যেখানে একফোঁটা জলের আশা করাই বৃথা, সেখানে এত ফুলের সমাহারে অবাক হতেই হয়।

এটাও সত্যি যে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়েই এই শুষ্কতম মরুভূমিতে ফুলের মেলা বসে। স্থানীয় মানুষজন এটিকে বলেন ডেসিয়েরতো ফ্লোরিডো বা ফুলের মরুভূমি।

তবে নিয়মিত নয়, বরং কয়েক বছরের ব্যবধানে এটি ঘটে। চিলির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে গত ৪০ বছরে মাত্র ১৫ বার এমন ফুল ফুটেছে।

এই অদ্ভুত প্রাকৃতিক রহস্যের সমাধান লুকিয়ে রয়েছে মরুভূমির মাটির গভীরে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর মরুভূমিতে বৃষ্টি হলে সেখানকার তাপমাত্রা অনেকটাই নেমে যায়। ফলে মাটির গভীরে থাকা ফুল গাছের বীজগুলো প্রাণ পায়।

জলের ছোঁয়ায় মাটির নিচের সুপ্ত বীজগুলি ফুল হয়ে ফুটে ওঠে। বীজগুলি একসাথে ফুল হয়ে ফুটে ওঠায় মরুভূমিতে এই ফুলের চাদর দেখা যায়। সাধারণত বসন্তেই এই ফুল দেখা যায়। তবে এবার এল নিনোর কারণে অনেক আগেই সকলে এই ফুলের গালিচা দেখতে পাচ্ছেন।