Sports

ব্যাটিং সাইক্লোন, বোলিং টাইফুন, কিউয়িদের হারিয়ে তৃতীয়বার টি২০ বিশ্বকাপ জিতল ভারত

নিউজিল্যান্ডকে দুর্ধর্ষ দাপটে পরাস্ত করে টি২০ বিশ্বকাপ রেখে দিল ভারত। পরপর ২ বার বিশ্বকাপ জিতল তারা। টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের তৃতীয় কাপ জয় এল রবিবাসরীয় সন্ধ্যায়।

সেমিফাইনালে ভারতের ২৫০-র ওপর রান তাড়া করে খেলাকে রোমাঞ্চে ভরা করে তুলেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ফাইনালে ভারত কার্যত একতরফা খেলে কিউয়িদের পরাস্ত করল। এদিন নিউজিল্যান্ডের প্রাপ্তি টস জয়। কিন্তু সেটাই হয়তো তাদের এই লড়াই হীন হারের কারণ হল।

ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠানোর খেসারত লজ্জার হার হেরে দিতে হল তাদের। টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে হেলায় জিতল ভারত। এই নিয়ে তৃতীয়বার টি২০ বিশ্বকাপ জয় করল তারা।

আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। যা বড় মাঠ বলে পরিচিত। ব্যাট করতে নেমে প্রথম ২ ওভার দেখেও সেটাই মনে হচ্ছিল যে এই পিচে ব্যাটিং সহজ হবেনা। এমনকি সেই সময় এটাও ভাবা হচ্ছিল যে ১৭০ রানের ওপর রান করতে পারলেও এই পিচে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া যাবে।

প্রথম ২ ওভারে ১২ রান আসে। তারপর যেন সব হিসেব নিকেশ বদলে যায়। আচমকা খেলার মোড় ঘুরে যায়। অস্বাভাবিক ভাবে প্রহার হতে থাকে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের।

প্রথম ২ ওভারে ১২ রান পাওয়া ভারত অভিষেক শর্মা আর সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং ঝড়ে স্বপ্নের রান গড়তে শুরু করে। চার আর ছক্কার বন্যা বইতে থাকে মাঠে। ৬ ওভারের শেষে ৯২ রান ঝলমল করতে থাকে স্কোর বোর্ডে।

মাত্র ৪টে ওভার পুরো খেলার ছবিটাই বদলে দেয়। এখানে দাঁড়িয়ে সকলেই ভাবতে থাকেন ভারত এভাবে খেলতে থাকলে ২৭০ থেকে ২৮০ রান উঠে যাবে। রানের গতি কিন্তু ৬ ওভারের পরও কমেনি।

তবে রাচিন রবীন্দ্র-র বলে অভিষেক ফেরেন ২১ বলে ৫২ রান করে। রানের খরা কাটিয়ে এদিন অভিষেকের জ্বলে ওঠা ভারতকে কতটা ভরসা দিল তা স্কোর বোর্ড বলে দিল।

অভিষেক ফিরলেও সঞ্জু এবং ঈশান কিষাণ ঝোড়ো ব্যাট চালিয়ে যেতে থাকেন। ফলে রানের গতি কমেনি। ফিল্ডিং ছড়ালেও বোলিং সংহারের দাপটে মাত্র ১৫ ওভারে ২০০ রানের গণ্ডি পার করে যায় ভারত। তাও মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে।

যে রান ২০ ওভারের ম্যাচে রীতিমত চ্যালেঞ্জিং স্কোর হয়, সেই রান উঠে যায় ১৫ ওভারেই। এদিন আরও একটা মজার রেকর্ড হয়েছে। ১৪ ওভারে ভারত ১৪টি চার এবং ১৪টি ছয় মারে।

কিন্তু এরপর আসেন জেমস নিশাম বল করতে। আর এই ওভারটাই নিউজিল্যান্ডকে খেলায় ফিরিয়ে আনে। ওই ১ ওভারে সঞ্জু ৪৬ বলে ৮৯ রান করে ও ঈশান কিষাণ ২৫ বলে ৫৪ রান করে ফেরেন। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকেও ওই ওভারেই ০ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরান নিশাম। ১ ওভারে ৩ উইকেট পুরো মাঠকে স্তব্ধ করে দেয়।

এই যে নিউজিল্যান্ড কিছুটা হলেও খেলায় ফেরে তার আবেশটা তারা ১৯ ওভার পর্যন্ত ধরে রাখে। এর মধ্যে হার্দিকও প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এই ৪ ওভারে মাত্র ২৮ রান করে ভারত। যাতে মাত্র ১টা চার আর ১টা ছক্কা আসে।

শেষ ওভারে কি ২৫০ পার হবে? প্রশ্নটা ছিল। কারণ নিউজিল্যান্ডের হয়ে তখন ভয়ংকর বোলিং করছেন নিশাম। কিন্তু শেষ ওভারে শিবম দুবের হাত ধরে ফের ৪ ওভার আগের ভারত ফিরে আসে মাঠে। নিশামকে শেষ ওভারে ২টি ছক্কা ও ৩টি চার হাঁকান শিবম দুবে। শেষ ওভারে ২৪ রান করে ভারত পৌঁছে যায় দুর্ভেদ্য ২৫৫ রানে।

২৫৬ রান করতে হবে। এই অবস্থায় ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই ফিন অ্যালেনের সহজ ক্যাচ ফস্কান শিবম দুবে। ওভারে হয় ৪ রান। দ্বিতীয় ওভারে কিন্তু টিম সাইফার্ট হার্দিক পাণ্ডিয়ার বলে ২১ রান নেন। রান রেট ধরে রাখার জন্য এটা কিউয়িদের প্রয়োজন ছিল।

ভারতের প্রয়োজন ছিল উইকেট। তৃতীয় ওভারে সেটাই এল অক্ষর প্যাটেলের বল থেকে। প্রথম ওভারে অ্যালেনের ক্যাচ ফস্কালেও এবার তাঁর ক্যাচ ধরতে ভুল করেননি তিলক বর্মা। ১ উইকেট হারানোর পর মাঠে আসেন রাচিন রবীন্দ্র।

চতুর্থ ওভারে বুমরাহ-র বলে অসামান্য ক্যাচ ধরেন ঈশান কিষাণ। রাচিন ১ রান করে ফেরেন। পঞ্চম ওভারে গ্লেন ফিলিপ্সকে বোল্ড করে ফেরান অক্ষর প্যাটেল। কার্যত নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে ধস নেমে যায়।

অষ্টম ওভারে ৩ রানে থাকা চ্যাপম্যানকে ফেরান হার্দিক পাণ্ডিয়া। ব্যাটে লেগে বল গিয়ে উইকেট উড়িয়ে দেয়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। তারপরেই নবম ওভারে নিউজিল্যান্ডের এই ম্যাচে কিছুটাও রান করতে পারা টিম সাইফার্টকে ফেরায় বরুণ চক্রবর্তীর ঘূর্ণি।

ফের অসামান্য ক্যাচ ধরেন ঈশান। ২৬ বলে ৫২ রান করে ফেরেন সাইফার্ট। ৭২ রানে ৫ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ডের আর খেলায় ফেরা প্রায় অসম্ভব এটা বুঝতে পেরে তারপরই ভারত জুড়ে আতসবাজি পুড়তে শুরু করে। মানুষ আনন্দে উদ্বেল হয়ে যান।

বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে ভারত। একাদশ ওভারে অর্শদীপের ছোঁড়া বল ড্যারিল মিচেলের গায়ে গিয়ে লাগে। যা নিয়ে মিচেল রেগে যান। প্রতিবাদ জানান। পরে অবস্থা সামাল দিতে ছুটে আসেন সূর্যকুমার।

১৩ তম ওভারে মিচেলকে ফেরান অক্ষর প্যাটেল। ক্যাচ ধরেন সেই ঈশান। ১৬ নম্বর ওভারে আবার উইকেট পতন। এবার বুমরাহ পরপর ২ বলে ২টি বোল্ড করে ফেরান নিশাম ও ম্যাট হেনরিকে।

১৮ তম ওভারে ফের বুমরাহর ইয়র্কার বোল্ড করে ফেরায় কিউয়ি অধিনায়ক স্যান্টনারকে। এদিন ৪ ওভার বল করে ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট তোলেন বুমরাহ।

বাকি ছিল ১ উইকেট। সেটা ১৯ তম ওভার করতে এসে তুলে নেন অভিষেক শর্মা। অভিষেকের ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে তিলক বর্মার হাতে ধরে পড়ে যান জ্যাকব ডাফি। ভারত জেতে ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপ।

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *