World

মার্চ মাসেই এ দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ খিদের জ্বালায় জ্বলবেন, হাতের বাইরে পরিস্থিতি

একটা দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ যদি খিদের জ্বালায় জ্বলতে থাকেন তাহলে তা এক অতি ভয়ংকর পরিস্থিতি। এ দেশে এমন পরিস্থিতি যে এটা ঠেকানোও মুশকিল।

দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ খিদের জ্বালায় জ্বলবেন মার্চ মাসে। এমন নয় যে আচমকাই মার্চ মাস থেকে খিদের জ্বালায় জ্বলতে শুরু করবেন তাঁরা। খাদ্যাভাব এ দেশের নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে উঠেছে। পরপর ২টি বৃষ্টির মরসুমে বৃষ্টি হয়নি। ফলে খরা পরিস্থিতি চরমে পৌঁছে গেছে।

শস্যের ফলন খরার জন্য দীর্ঘকালীন মেয়াদের হিসাবে ৮৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তারমধ্যে দেশের অধিকাংশ জায়গায় সংঘর্ষ পরিস্থিতি চলছে। খাদ্যাভাবে সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন এ দেশের মহিলা ও শিশুরা।

৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের অবস্থা ভয়ানক। খাবার নেই। চূড়ান্ত অপুষ্টিতে ভুগছে তারা। দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ মানে ৬৫ লক্ষ মানুষ। সোমালিয়ার জনসংখ্যার এটাই এক তৃতীয়াংশ। মোটামুটি সোমালিয়ার মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ৯০ লক্ষের মত। তারমধ্যে এত মানুষ খাবারের অভাবে ধুঁকছেন, এটা কার্যত এক জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করেছে।

গত জানুয়ারিতে সোমালিয়ায় খাবারের অভাবে ভুগতে থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ৪৮ লক্ষের মত। মার্চেই তা বেড়ে ৬৫ লক্ষ হতে চলেছে। যা পরিস্থিতি তাতে সংখ্যাটা আরও বাড়তেই পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালে সোমালিয়ায় কেবল ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে অপুষ্টিজনিত পরিস্থিতির শিকার হতে চলেছে ১৮ লক্ষ শিশু।

জরুরি ভিত্তিতে এখানে খাবার পৌঁছনো দরকার। এজন্য আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের আধিকারিকরা। কারণ সোমালিয়ার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যে খাবারের প্রয়োজন তার যোগান ধরে রাখতে আরও অর্থের প্রয়োজন। আর তা অবিলম্বে।

সোমালিয়ার খাদ্যাভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে বহু মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে পরিবার নিয়ে অন্যত্র পাড়ি দিচ্ছেন একটু খাবারের আশায়। খরায় মাটি শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। গবাদিপশুর জীবন যাচ্ছে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *