World

খাবার নিয়ে মাথায় হাত সাধারণ মানুষের, পাক আদালতই বলছে অবস্থা জটিল

মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম শর্ত খাবার। খাবার যাই হোক তা নির্ভেজাল হওয়া দরকার। মানুষের কাছে পৌঁছনো দরকার। পাকিস্তানে কিন্তু খাবার নিয়ে মাথায় হাত সাধারণ মানুষের।

খোদ পাকিস্তানের আদালতই বলছে অবস্থা ভয়াবহ। লাহোর হাইকোর্ট একথা পরিস্কার করেছে। আর কিছু নিয়ে নয়, মানুষের দৈনন্দিন খাবার নিয়ে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আদালত।

পাকিস্তানে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছনো দৈনন্দিন খাবার। যা তাঁরা বাজার থেকে কিনে আনছেন। কিন্তু সে খাবার যে কোনও সময় মানুষকে অসুস্থ করে তুলতে পারে। সে খাবার শিশুদের জন্য ভয়ংকর হতে পারে।

কারণ পাকিস্তানে এখন দুধে ভেজাল, মশলায় ভেজাল, ভোজ্য তেলে ভেজাল, বোতলবন্দি পানীয় জলে ভেজাল, এমনকি চিজ বলে যা বিক্রি হচ্ছে তাতেও ভেজাল। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের খাবারদাবারে এতটাই ভেজাল মিশেছে যে তা বিশেষজ্ঞদের কাছে আতঙ্কের হয়ে উঠেছে।

ডেইলি মিরর-এর একটি প্রতিবেদনকে উল্লেখ করে সংবাদ সংস্থা আইএএনএস জানাচ্ছে, ২ হাজার ৪০০ লিটার ভেজাল দুধ সরবরাহের সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই মামলায় অভিযুক্তের জামিন নামঞ্জুর করে লাহোর হাইকোর্ট পাকিস্তানের অধিকাংশ খাবারে মেশা ভেজালকে ভয়াবহ বলে ব্যাখ্যা করেছে।

করাচি শহরে যেখানেই দুধের নমুনা পরীক্ষা করেছেন পাকিস্তানের কোয়ালিটি কন্ট্রোল আধিকারিকরা, সেখানেই ভেজাল পেয়েছেন তাঁরা। ভেজাল এতটাই বেশি যে তা মানুষের খাবার যোগ্যই নয় বলে রিপোর্ট দেন তাঁরা। সেই দুধই দেদার বিক্রি হচ্ছে করাচি শহরে। দুধে ডিটারজেন্ট, ফর্মালিন, ইউরিয়া, ভেজিটেবল ফ্যাট সহ অন্য রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে পাকিস্তান জুড়ে।

পাকিস্তানের বিভিন্ন দোকানে বেশ ফলাও করে সাজিয়ে রাখা প্যাকটজাত খাবার তৈরির অনেক সংস্থাই লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয়। অথচ তাদের প্যাকেট দেদার বিকোচ্ছে বাজারে। সাধারণ মানুষ তা কিনছেন।

এভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খাবারে জীবনসংকটে ফেলা ভেজাল ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি সামনে আসার পর পাকিস্তান প্রশাসনের গাফিলতির দিকে আঙুল তুলছেন অনেকে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *