লাল বাঁদরদের ধরা বা তাড়া করায় সম্মতি দিল ভারতের প্রতিবেশি দেশের সরকার
কোনও প্রাণিকে ধরা বা তাদের উত্যক্ত করা বরদাস্ত করা হয়না কোনও দেশেই। তবে ভারতের প্রতিবেশি দেশ লাল বাঁদরদের ক্ষেত্রে সে নিয়ম শিথিল করে দিল।
প্রাণিদের ধরা বা তাদের কোনওভাবে তাড়া করা, জ্বালাতন করা, উত্যক্ত করা, এমন কোনও কিছুতেই কোনও দেশের সরকার সম্মতি দেয়না। প্রাণিদের তাদের মত করেই থাকতে দেওয়া হয়। জীবনধারণ করতে দেওয়া হয়। বরং মানুষ যাতে তাদের কোনওভাবে সমস্যার কারণ না হয় সেদিকেই কড়া নজর থাকে।
কিন্তু ভারতের প্রতিবেশি দেশে লাল বাঁদরদের ক্ষেত্রে সে নিয়ম শিথিল করে দিল খোদ সরকার। লাল বাঁদররা দল বেঁধে কৃষকদের ফসল ভরা জমিতে ঢুকে তাণ্ডব চালাচ্ছে, এমন রিপোর্ট প্রায়ই পাচ্ছিল নেপালের বন দফতর। বাঁদররা প্রচুর ফসলের ক্ষতি করছিল। যা কৃষকদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছিল।
এমনকি জমিতে চাষ করার ক্ষেত্রেও উৎসাহ হারাচ্ছিলেন কৃষকরা। ভয় পাচ্ছিলেন পরিশ্রম করে ফসল ফলানোর পর বাঁদররা দল বেঁধে এসে একদিনে ফসল ছারখার করে দিয়ে যাবে। এমন ঘটনা ঘটছিলও।
ফলে এবার নেপালে সরকারিভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বাঁদররা কোনও কৃষিজমিতে ঢুকে তাণ্ডব চালালে তাদের তাড়া করে সেখান থেকে হটিয়ে দিতে বা তাদের ধরে ফেলতে পারবেন কৃষকরা। ধরে ফেললে কিন্তু সেই লাল বাঁদরকে ন্যাশনাল পার্ক অফিস, ওয়াইল্ড লাইফ রিজার্ভ অফিস, কাছের সাব-অর্ডিনেট অফিস বা ডিভিশন ফরেস্ট অফিসের হাতে তুলে দিতে হবে।
যদি বাঁদরদের তাড়া করতে গিয়ে বা ধরতে গিয়ে কোনও বাঁদরের প্রাণ যায় তাহলে স্থানীয় প্রশাসনের এক আধিকারিক এবং কমপক্ষে ৫ জন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর সামনে তাকে কবর দিতে হবে। এই প্রাণ যাওয়া নিয়ে একটি রিপোর্টও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরকে ২ মাসের মধ্যে সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। সর্বোপরি লাল বাঁদরদের তাড়া করা বা পাকড়াও করার অধিকার ১ বছর পর্যন্ত লাগু থাকবে।
অন্যদিকে নেপালের কোনও জাতীয় উদ্যান, সংরক্ষিত এলাকা, জাতীয় অরণ্য এলাকা এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ এলাকায় এই নিয়ম বলবত হবেনা। সেখানে এমনটা করাও যাবেনা। কেবল কৃষিজমিতে বাঁদরের হানা হলে লাল বাঁদরদের তাড়া করা বা ধরা যাবে নেপালে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা













