মৎস্যজীবীদের নৌকা মাছে ভরিয়ে দিচ্ছে জিপিএস, কীভাবে করছে সাহায্য
মাছ ধরতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে হয়। সেখানে জাল ফেলে মাছ ধরতে হয়। কিন্তু এখন জিপিএস দেশের এই অংশে মৎস্যজীবীদের নৌকা মাছে ভরে দিচ্ছে।
শুনে একটু খটকা লাগতেই পারে। জিপিএস-এর সঙ্গে মাছ ধরার কি সম্পর্ক? বেশি মাছ ধরায় জিপিএস কি সাহায্য করবে? বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল জাগাটাও আশ্চর্য নয়। তবে কার নিকোবর দ্বীপে এখন মৎস্যজীবীদের মুখের হাসি চওড়া করেছে জিপিএস ব্যবস্থা।
কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে এক বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয় এই দ্বীপের ক্ষেত্রে। নিকোবরের বিভিন্ন দ্বীপেই সাধারণ মানুষের বড় ভরসা মৎস্য চাষ। কিন্তু নৌকা নিয়ে সমুদ্রে বার হলেই যে প্রচুর মাছ পাওয়া যায় এমনটা নয়।
আবহাওয়া এবং সমুদ্রের চরিত্রে হঠাৎ বদল অনেক কিছু ওলটপালট করে দেয়। মৎস্যজীবীরা যেখানে মাছ পাবেন বলে ভেবেছিলেন সেখানে মাছ সেভাবে নাও পেতে পারেন। তখন আরও গভীর সমুদ্রের নানা দিকে তাঁদের চলে যেতে হয়।
আবার সামুদ্রিক ঝড় ঝঞ্ঝা, প্রতিকূল আবহাওয়া অনেকসময় তাঁদের পথভ্রষ্টও করে। দ্বীপের সাধারণ মৎস্যজীবীদের ছোট নৌকা অনেকসময় পথ হারায়। দীর্ঘসময় সমুদ্রে কাটিয়েও মাছ সেভাবে ওঠেনা।
এখন সরকার এখানে ৫টি জিপিএস যন্ত্র আদিবাসী মৎস্যজীবীদের হাতে তুলে দিয়েছে। আর ৫টি যন্ত্র রাখা হয়েছে সাধারণ ব্যবহারের জন্য। এই যন্ত্র কীভাবে চালাতে হয়, তা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়, সব আদিবাসী মৎস্যজীবীদের শেখানোও হয়েছে।
এর ফলে এখন আর পথ হারাচ্ছেন না তাঁরা। উদভ্রান্তের মত সমুদ্রের সঙ্গে লড়াই করে তাঁদের ঘুরতেও হচ্ছেনা। সমুদ্রে এধার ওধার চলে যাচ্ছেনা তাঁদের নৌকা। সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া বন্ধ হয়েছে।
ঠিক যেখানে যেখানে মাছের ঝাঁক বেশি সেখানে ওই যন্ত্রের সাহায্য নিয়ে দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছেন তাঁরা। মাছও ভাল পাচ্ছেন। এখন সমুদ্রে কম সময় থেকে অনেক বেশি মাছ পাচ্ছেন তাঁরা।
ফলে তাঁদের মাছ বিক্রি বেড়েছে। মুনাফার অঙ্কও বেড়েছে। যা আখেরে তাঁদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এছাড়া মাছ যাতে বেশি ধরতে পারেন সেজন্য আদিবাসী মৎস্যজীবীদের নতুন নতুন প্রযুক্তিতে শিক্ষিত করার কাজও চলছে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা













