National

রেলের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিল তাঁকে, নিজের রূপকথার উত্থান কাহিনি শোনালেন সফল বিজ্ঞানী

এ কাহিনি সকলের জানা উচিত। একটি রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম কীভাবে এক বিজ্ঞানীর জন্ম দিয়েছিল সে কাহিনি জানালেন ভারতের অন্যতম সফল বিজ্ঞানী। বললেন তিনি ভাগ্যবান যে গরীব ছিলেন।

সময়টা ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল। এটা ছিল তাঁর কলেজ জীবন। সে সময় শহরের কলেজগুলো ফি নিত ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে। তার ওপর হস্টেলে থাকার খরচ মাসে ২০০ টাকা। এ টাকা দেওয়ার মত ক্ষমতা তাঁর পরিবারের ছিলনা।

মা দৈনিক ৩ টাকা রোজে কাজ করতেন। এটাই ছিল একমাত্র উপার্জন। ছেলের কলেজের ফি দেওয়ার জন্য নিজের হাতা থাকা ৪টি চুড়িও বিক্রি করে দিয়েছিলেন তিনি। তাই সস্তায় কোথায় পড়া যায় সেটা খুঁজতে গিয়ে তিনি খোঁজ পান ২৫ কিলোমিটার দূরে কোয়েম্বাটুরে শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের।

এখানে কলেজ ফি ছিল ৩০০ টাকা। মাসে ৭৫ টাকা ছিল হস্টেলে থাকার খরচ। এই ৭৫ টাকা দেওয়ার ক্ষমতাও তাঁর ছিলনা। আবার যাতায়াত যে বাসে করবেন তারও উপায় নেই। মাসে ৩০ টাকা খরচ। সেটাও অনেক।

সে সময় ছাত্রদের জন্য ট্রেনে যে কোয়াটার্লি পাস হত তার খরচ ছিল ৭ টাকা। দৈনিক কলেজ করার জন্য এটাই বেছে নেন তিনি। কিন্তু তাতেও একটা সমস্যা ছিল। ট্রেন সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে তাঁকে পেরিয়ানায়াকন পালায়াম স্টেশনে নামিয়ে দিত। আবার সেখান থেকে আসার ট্রেন ছিল সন্ধে ৬টা ১০ মিনিটে। কলেজ শুরু হত সকাল ৯টায়। শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময় ছিলনা। ফলে একটা বড় সময় তাঁকে প্ল্যাটফর্মেই কাটাতে হত।

প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ ঘণ্টা তাঁকে ট্রেন ধরার জন্য প্ল্যাটফর্মে বসে থাকতে হত। এই সময় তিনি প্ল্যাটফর্মে বসেই ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি এবং ম্যাথম্যাটিকস পড়তেন। এটা ছিল তাঁর প্রতিদিনের রুটিন। তিনি হিসাব দিয়েছেন এখানেই তিনি ১ হাজার দিন এবং ৬ হাজার ঘণ্টা কাটিয়েছেন ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি এবং ম্যাথম্যাটিকস পড়ে।

নিজের এই কাহিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে ভাগ করে নিয়েছেন বিজ্ঞানী এ ভালুমানি। থাইরোকেয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা কর্ণধার তথা দেশের অন্যতম সফল বিজ্ঞানী ভালুমানির এই লড়াইয়ের কাহিনি সকলকে ছুঁয়ে গেছে।

ভালুমানি লিখেছেন তিনি ভাগ্যবান যে তিনি দরিদ্র ছিলেন। সেই লড়াইটাই হয়তো তাঁকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে। এখন ৫ হাজার কোটি টাকার সংস্থার মালিক ভালুমানি তাঁর সাম্রাজ্য তৈরি করেছেন। কিন্তু সেই রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মটার কথা ভুলতে পারেননি।

স্ত্রীকে নিয়ে ভালুমানি হাজির হয়েছিলেন সেই প্ল্যাটফর্মে। যেখানে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে তিনি তাঁর পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতেন। ভালুমানির এই লড়াই, পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় তাঁকে তাঁর বিপুল সাফল্য এনে দিয়েছে। যা আজকের প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *