National

২৫ বছর পর রেকর্ড ঠান্ডা শ্রীনগরে

গত ২৫ বছরে এমন ঠান্ডা দেখেনি শ্রীনগর। কনকনে ঠান্ডায় এখন কাঁপছে গোটা শহর। আরও কী নামতে পারে পারদ? সে সম্বন্ধে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

শ্রীনগর : পারদ ক্রমশ নিচের দিকে নামছিল শ্রীনগরের। জনজীবন কাবু হয়েছিল ঠান্ডায়। মাইনাস তো বটেই, এমনকি মাইনাসেও নিচের দিকেই নামছে পারদ।

অবশেষে গত বৃহস্পতিবার মাইনাস ৮.৪ ডিগ্রিতে নামে শ্রীনগরের পারদ। এতটা ঠান্ডা শ্রীনগরে গত ২৫ বছরে রেকর্ড হয়নি। ঠান্ডায় শ্রীনগর এখন কার্যত স্তব্ধ।

আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে ১৯৯৫ সালে শ্রীনগরের পারদ নেমেছিল মাইনাস ৮.৩ ডিগ্রিতে। সেটাই এখনও পর্যন্ত শ্রীনগরে পারদ নামার ক্ষেত্রে রেকর্ড হয়ে ছিল।

বৃহস্পতিবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড তৈরি হল। আবহাওয়া দফতর অবশ্য জানিয়েছে মাইনাস ৮.৪ ডিগ্রিতে পারদ নামলেও তার চেয়ে আর নিচে পারদ নামার সম্ভাবনা বড় একটা নেই শ্রীনগরে।

কাশ্মীরে সবচেয়ে ঠান্ডার সময়কে বলা হয় চিল্লাই কলন। প্রতি বছরই ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকে চিল্লাই কলন। এই সময় পারদ সবচেয়ে নিচে নামে।

কাশ্মীরের অন্যান্য জায়গার পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। বরফে ডেকে গেছে বহু এলাকা। দ্রাস-এ পারদ নেমেছে মাইনাস ২৮.৩ ডিগ্রিতে। লাদাখের লেহ শহরের পারদ নেমেছে ১৬.৮ ডিগ্রিতে।

দ্রাস বা লেহ ছাড়া পহেলগামে পারদ নেমেছে মাইনাস ১১.১ ডিগ্রিতে। কার্গিলে পারদ নেমেছে মাইনাস ১৯.৬ ডিগ্রিতে। গুলমার্গে পারদ নেমেছে মাইনাস ৭ ডিগ্রিতে। জম্মু কাশ্মীরের শীতের রাজধানী হিসাবে পরিচিত জম্মু শহরের পারদ যাচ্ছে ৫.৯ ডিগ্রি।

কাশ্মীরে ঠান্ডা ৩ ভাগে বিভক্ত। চিল্লাই কলন, চিল্লাই খুর্দ এবং চিল্লাই বাচ্চে। এরমধ্যে ৪০ দিন হল সবচেয়ে ভয়ংকর ঠান্ডার দিন। এই ৪০ দিনের শুরু হয় ২১ ডিসেম্বর। আর শেষ হয় ৩১ জানুয়ারি।

সেই সময়কালই এখন চলছে। ফলে ঠান্ডা যে এখন কাশ্মীরের স্বাভাবিক জনজীবনে প্রভাব ফেলবে সেটাই স্বাভাবিক। এখন উপত্যকা সাদা বরফে ঢাকা। চারিধার কুয়াশার মত। অধিকাংশ জলাধারই বরফ হয়ে গেছে।

এ সময়ে বিখ্যাত ডাল লেকে বরফের ওপর হেঁটে বেড়ানো যায়। প্রতি বছরই এই সময়টা কাশ্মীরবাসীর জন্য কঠিন সময়। এই সময়টা কাটানো তাঁদের কাছে একটা চ্যালেঞ্জের মত হয়ে দাঁড়ায়। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button