ভুট্টার ক্ষেত থেকে আচমকা জন্ম নেয় এক আগ্নেয়গিরি, ৯ বছরে তা বাড়ে ১৩৯১ ফুট
এটা সিনেমা হলে মেনে নেওয়া যেত। আজগুবি বললেও কম বলা হত যদি না এর তথ্যপ্রমাণ থাকত। এক কৃষকের ভুট্টার ক্ষেতে আশ্চর্য ভাবে জন্ম নেয় একটি আগ্নেয়গিরি।
১৯৪৩ সালে যখন এক কৃষক তাঁর জমিতে ভুট্টার চাষ করছিলেন তখনও তিনি এমন হতে পারে ভাবেননি। তিনি কেন বিজ্ঞানীরাও ভাবেননি এমনটাও সম্ভব। গ্রামের সাধারণ এক কৃষক কিন্তু দেখলেন এক আশ্চর্য ঘটনা। তাঁর সাধের ভুট্টা ক্ষেত ফুঁড়ে বেরিয়ে এল একটা আগ্নেয়গিরি।
যা ছিল একটি সবুজ ক্ষেত তা আচমকাই এক আতঙ্কের জন্ম দিল। শুধু কি জমি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা, জ্বালামুখ থেকে আগুন উগরে দিতে শুরু করল এই আগ্নেয়গিরি। সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে হুহু করে বাড়তেও শুরু করল।
দিনে দিনে উচ্চতা বাড়তে থাকল তার। যেন এক দানব মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে সব কিছু গ্রাস করতে চায়। মাত্র ৯ বছর! ১৯৫২ সালের মধ্যে সেই আগ্নেয়গিরি উচ্চতায় ১ হাজার ৩৯১ ফুটে পৌঁছে যায়।
এই সময়ের মধ্যে অনেকবার অগ্নুৎপাত করেছে সে। জ্বালামুখ থেকে ছিটকে বেরিয়ে এসেছে পাথরের গরম টুকরো, লাভা আর গরম ছাই। আশপাশের কয়েকটি গ্রাম লাভা আর ছাইতে ভরে যায়।
সেখান থেকে বাসিন্দাদের চিরদিনের মত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। যাতে তাঁদের কোনও ক্ষতি না হয়। ভিটেমাটি, জমিজমা ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে তাঁদের চিরদিনের মত বিদায় জানাতে হয় চেনা গ্রামকে।
আগ্নেয়গিরি অনেক আছে। তাদের জন্ম ইতিহাসও বহু বহু প্রাচীন। কিন্তু এমন হালফিলে সকলের চোখের সামনে সমতল চাষ জমি ফুঁড়ে একটি আগ্নেয়গিরির জন্ম বিজ্ঞানীদের হতবাক করে দিয়েছে।
পৃথিবী যে সর্বদাই এক বদলের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলেছে এ তার এক উৎকৃষ্ট প্রমাণ। মেক্সিকোর মিচোয়াকান রাজ্যে রয়েছে এই সিন্ডার কোন আগ্নেয়গিরিটি। যার নাম পারিকুটিন আগ্নেয়গিরি। এখন অবশ্য এটি ঘুমন্ত।
এখানে অনেক মানুষ ঘুরতে আসেন। এর গা বেয়ে উপরেও চড়েন। এখন পারিকুটিন মেক্সিকোর এক অন্যতম পর্যটনস্থল। তবে এ যে পৃথিবীর এক অন্যতম আশ্চর্য তা মেনে নিতেই হয়।













