ভাসমান চা, বৃদ্ধার হাত ধরে দেশে এও এক অনন্য অভিজ্ঞতা
ভাসমান চায়ে চুমুক শুধু চা পান করাই নয়, একটি সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়া। যা এক বৃদ্ধার হাত ধরে অনুভব করে চলেছেন বহু মানুষ।
এখানে বিকেল হলে জলে ভেসে আসে চা। সাধারণ চা নয়। মশলা চা। তার গন্ধ মানুষকে আকর্ষিত করে। শুধু চা নয়, তার সঙ্গে মিশে থাকে আপ্যায়ন। মিশে থাকে মিষ্টি হাসি। আর মিশে থাকে অনেকটা সংস্কৃতি। যা এক বৃদ্ধাকে দেশ বিদেশের মানুষের কাছে কবে যেন আপনজন করে তুলেছে।
তিনি ভেসে আসেন। জলে ভেসে। নৌকায় চেপে। ছোট্ট নৌকার গলুইতে থাকে তাঁর চায়ের সরঞ্জাম। গরম গরম চা যদি তাঁর কাছ থেকে নিতে হয় তাহলে চলে আসতে হয় জলের ধারে।
তিনি নৌকা থেকে নামেন না। ভেসে আসেন। তারপর আবার ভেসেই ফিরে যান। মাঝে পর্যটকদের খাইয়ে যান তাঁর মশলা চা, সঙ্গে স্থানীয় জলখাবার।
এই চা কিনে খাওয়ার সঙ্গে যে আন্তরিকতাটা বৃদ্ধার ব্যবহারে ও পরিবেশনে মিশে থাকে সেটা যেন আরও বেশি করে টানে সকলকে। ৭০ পার করা বৃদ্ধার নাম শান্তাকুমারী। কিন্তু ওই নামে তাঁকে বড় একটা কেউ চেনেন না। পর্যটকরা তো নয়ই। সকলের কাছে তিনি চায়া চাচি।
কেরালার বিখ্যাত ব্যাকওয়াটার। সেই ব্যাকওয়াটারের ধারে কুমারাকম কোকোনাট লেগুন। এখানেই বিকেল হলে দেখা মেলে চায়া চাচি-র। নৌকায় করে তাঁর বিখ্যাত মশালা চা নিয়ে হাজির হন জলপথে। নৌকা থেকে নামেন না। নৌকায় দাঁড়িয়েই চা এগিয়ে দেন পারে দাঁড়ানো ক্রেতার হাতে।
তিনি এখন এতটাই জনপ্রিয় যে অনেক পর্যটক লোকমুখে শুনে এখানে হাজির হন এই চায়া চাচির দেখা পাওয়ার জন্য। তাঁর ভাসমান চায়ে চুমুক দেওয়ার জন্য। কেরালা ভ্রমণের এও যেন এক অঙ্গ হয়ে উঠেছে।













