Lifestyle

শুধু শোয়া বসা নয়, শীতলপাটির এখন অন্যই কদর

এখনকার ফ্যাশন সচেতন নারী এবং পুরুষ নজরকাড়া এবং পরিবেশ বান্ধব জিনিস পছন্দ করেন। তাই প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি অনন্য শিল্প ভাবনার চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মৌসুমি গুহ মান্না, কলকাতা : বাংলাকে প্রকৃতি একেবারে সাজিয়ে রেখে দিয়েছেন, করে তুলেছেন সুজলা সুফলা। বাংলার মাটিতে উপকরণের কোনও শেষ নেই। প্রয়োজন শুধুমাত্র শিল্পমনস্ক মনের। যা দিয়ে প্রাকৃতিক উপাদানগুলি থেকে ব্যবহারযোগ্য জিনিস বানানো যাবে। আর দরকার সেই জিনিস বিক্রির একটি উপযুক্ত বাজার।

কৃষ্টি এবং শিল্পের পীঠস্থান এই বঙ্গভূমি। যেখানে অবহেলায় বেড়ে ওঠা ঘাস থেকেও তৈরি হয় রোজকার জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় দ্রব্য। তেমনই এক জিনিস এই শীতলপাটি। যা তার শীতলতায় এই যুগের শীততাপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রকেও হার মানাবে। একটা সময় ছিল যখন নিজেদের ব্যবহারের জন্য কিংবা বাড়িতে অতিথি আসলে মানুষ শীতলপাটি পেতে দিতেন।

কোচবিহার এই শীতলপাটির জন্য বহুদিন ধরেই পরিচিত। একধরনের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের ছাল থেকে তৈরি হয় শীতলপাটি। প্রথমে ওই ছাল কেটে কিছুদিন ভিজিয়ে রাখা হয়। এরপর সেগুলিকে শুকিয়ে এবং প্রক্রিয়াকরণ করে লম্বা লম্বা ফিতের আকার দেওয়া হয়।

বেতের মত ফিতেগুলিকে বিশেষ ধরনের বুনন প্রক্রিয়ায় বুনে শীতলপাটি তৈরি করা হয়। যা মেঝেতে কিংবা বিছানায় পেতে রাখলে শোয়া বসার জন্য খুবই আরামদায়ক হয়ে ওঠে। তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বদলেছে মানুষের রুচি। তাই এখন আর শুধুমাত্র ঘরোয়া কাজে শীতলপাটি ব্যবহার হয়না।

শীতলপাটি দিয়ে এখন বিভিন্ন আকারের বাহারি ব্যাগ তৈরি করা হয়। যা নারী পুরুষ উভয়েই ব্যবহার করতে পারেন। গুণমানেও ব্যাগগুলি উৎকৃষ্ট, অত্যন্ত টেকসইও হয়। আবার দামও সকলের সাধ্যের মধ্যেই থাকে। এমনকি প্রয়োজনে এগুলি জল দিয়ে ধুয়ে পরিস্কারও করা যায়।

কোচবিহারের অনেক শিল্পী শীতলপাটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ তৈরি করেন। বিভিন্ন মেলায় তাঁরা তাঁদের সামগ্রি নিয়েও যান। ১০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা অবধি দামের ব্যাগ রয়েছে। চিরাচরিত শীতলপাটিও তাঁদের কাছে পাওয়া যায়। যার দাম ১ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *