Lifestyle

শুধু চোখের সৌন্দর্য নয়, প্রাচীনকালে মিশরীয় সেনারা বিশেষ কারণে কাজল ব্যবহার করতেন

চোখে ঘন কালো কাজলের রেখা বহু নারীর রূপের সংজ্ঞাই বদলে দেয়। তবে চিরকাল কাজলের এই ব্যবহার ছিলনা। একসময় মিশরে বিশেষ কারণে সেনারা কাজল ব্যবহার করতেন।

কাজল শুধুমাত্র কোনও প্রসাধনী নয়। বিভিন্ন দেশে এটি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং ব্যক্তিগত তাৎপর্যের সাথে গভীরভাবে জড়িত। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে সৌন্দর্য, পরম্পরা, ঐতিহ্য, সবক্ষেত্রেই কাজলের একটি চিরকালীন প্রাসঙ্গিক ভূমিকা রয়েছে।

কাজলের উৎপত্তির ইতিহাস শুধু অতিপ্রাচীনই নয় বরং অভিনবও। জানা যায় প্রাচীনকালে মিশরে যোদ্ধারা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রথম কাজলের ব্যবহার শুরু করেন। সেনারা কাজল পরে যুদ্ধ করতেন।

কাজল তাঁদের সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে রক্ষা করত বলে বিশ্বাস। চোখে কাজল লাগিয়ে যুদ্ধ করা মিশরীয় সেনার কাছে ছিল একটি পারম্পরিক ও বাস্তবভিত্তিক অভ্যাস। খ্রিস্টপূর্ব ৩ হাজার ১০০ বছর আগে মিশরীয়রা গ্যালেনা নামে পাথর দিয়ে তৈরি কাজল লাগাতেন।

প্রাচীন মিশরের মানুষ বিশ্বাস করতেন চোখে কাজল লাগালে তা তাঁদের সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি, বালি ঝড়, বাতাসে ভেসে থাকা জীবাণু থেকে রক্ষা করবে। ফলে তাঁরা চোখের সংক্রমণ থেকে সহজেই রক্ষা পাবেন। প্রসাধনী হিসেবেও কাজল জনপ্রিয় ছিল।

প্রাচীন ভারতে কাজলের আয়ুর্বেদিক গুণাবলী সর্বজনবিদিত। মূলত আয়ুর্বেদিক ঐতিহ্য থেকে এর ব্যবহার শুরু হয়। চোখের সুরক্ষার সঙ্গে চোখের বিভিন্ন রোগ নিরাময়েও কাজলের ব্যবহার ছিল। বিশ্বাস করা হত এটি চোখের জলীয় অংশকে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে রক্ষা করে।

প্রাচীন মিশর এবং ভারত থেকে শুরু করে বর্তমান সময়েও কাজল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসাধনী। এমনকি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আচার অনুষ্ঠানেও কাজল ব্যবহৃত হয়।

এখনও উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের মহিলারা নিজেদের বিবাহিত পরিচয় বোঝাতে ঠোঁট এবং থুতনির মাঝখানে কাজলের রেখা লাগান। আফ্রিকায় পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই প্রতিটি অনুষ্ঠানে কাজল ব্যবহার করেন।

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *