এটিই পৃথিবীর একমাত্র সাপ যারা পাখির মত সুন্দর বাসা বানায়
পৃথিবীতে আশ্চর্যের শেষ নেই। সাপেরা সাধারণত গর্ত বা গাছের কোটরে থাকা পছন্দ করে। কিন্তু একটি সাপ আছে যারা যত্ন করে বাসা বানায়।
সাপদের স্বভাব সম্বন্ধে একটা ধারনা কমবেশি সকলের আছে। সাপেরা শীতের সময় মাটির তলায় গর্তের মধ্যে ঘুমিয়ে কাটায়। বর্ষায় তাদের দৌরাত্ম্য বাড়ে। সাপেরা গর্ত বা গাছের কোটরে ঢুকে কুণ্ডলী পাকিয়ে বিশ্রাম নেয়। তারা নিজেদের জন্য কোনও বাসা তৈরি করেনা।
কিন্তু সব কিছুরই ব্যতিক্রম থাকে। তেমনই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চেহারার বিষধর সাপটি কিন্তু বাসা তৈরি করে। অবশ্য নিজের থাকার জন্য নয়। ডিম পাড়ার জন্য। তবে তারা যেমন তেমন করে বাসা তৈরি করেনা। অত্যন্ত যত্ন করে বাসা তৈরি করে।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চেহারার বিষধর হল শঙ্খচূড়। যাকে ইংরাজিতে বলা হয় কিং কোবরা। এই সাপ যতই ভয়ংকর হোক বাসা তৈরির সময় তারা শৈল্পিক। সাধারণত বড় কোনও গাছের তলা বা বাঁশঝাড়ের মাঝে তারা বাসা বানায়। যাতে পর্যাপ্ত ছায়া পেতে পারে তার বাসা। বৃষ্টি হলে সরাসরি জলও না পড়ে।
বাসা তৈরির আগে যেখানে বাসা তৈরি করবে বলে মনে করছে সেই জায়গা বেশ কয়েকদিন ধরে রেইকি করে। তারপর গাছের পাতা দিয়ে বাসা তৈরি শুরু হয়। বাসাগুলি একটা খাবার টেবিলের সমান বড় হয়। উচ্চতাও হয় ৫০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটারের মত।
বাসাটি সুন্দর করে তৈরির পর সেটির ওপর থেকে চাপ দিয়ে সেটিকে শক্তপোক্ত করে তোলে তারা। তারপর সেই বাসার মাঝখানে একটা গর্ত করে। গর্ত হয়ে গেলে সেই গর্তের মধ্যে তারা ডিম পাড়ে।
সাধারণত গরমের শুরুর দিকে শঙ্খচূড়রা ডিম পেড়ে থাকে। তবে ডিম পাড়লেও তারা ডিমে তা দেয়না। বরং সারাদিন বাসার কাছে অতন্দ্র প্রহরায় থাকে। যাতে তার বাসা বা ডিমের ধারেকাছে কেউ না ঘেঁষে।
পাখিরা সাধারণত যত্ন করে বাসা তৈরি করে ডিম পাড়ার আগে। কিন্তু সাপেরা সাধারণত তা করেনা। ব্যতিক্রম কেবল কিং কোবরা। যারা যতটা ভয়ানক ততই সন্তানের প্রতি যত্নবান।

